জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
জাপানে চার দিনের আনুষ্ঠানিক সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ২টা ৪৮ মিনিটে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। ফ্লাইটটি এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সফরে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। গত ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সফরের অন্যতম বড় অর্জন হলো বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব। বিনিয়োগের এই গতি ত্বরান্বিত করতে দুই পক্ষই প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি নতুন ‘ইয়েন-লোন’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। ঋণ সহায়তাপুষ্ট দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং ‘উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে। জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
দুই দেশের মধ্যে মোট ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েনের অনুদান সহায়তা অন্যতম। এছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা আগ্রহপত্রও বিনিময় করা হয়েছে। চুক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তিও রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সরকারি পর্যায়ের বাইরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেট্রোর তত্ত্বাবধানে বেসরকারি খাতে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের প্রথম ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) সম্পাদনের পথ প্রশস্ত করবে।
টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধানমন্ত্রী জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। খাতগুলো হলো—অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, উচ্চগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের নিশ্চয়তা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। গত ২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে’ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসি গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া পোশাক খাতের বড় প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সফরের অংশ হিসেবে ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফুত্তসুতে জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়াতে নিতসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার নাগোয়া সফরকালে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোতোমাচি কারখানা ও টয়োটা মেমোরিয়েটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করে জাপানের অটোমোবাইল শিল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা মেট্রোরেল ও বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো চলমান বড় প্রকল্পে জাপানের সহায়তা এবং আগামী দিনে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

























