জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে নতুন গ্যাস: উদ্বোধন শনিবার
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীনে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আগামী শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীরতার তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি কূপ খনন প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ এবং কামতা-২ কূপের জন্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কূপ হিসেবে তিতাস-২৮ থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।
বিজিএফসিএল জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের আরও চারটি নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে তিতাস-২৯ নম্বর কূপের লগিং ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিজিএফসিএলের মতে, আগামী দেড় মাসের মধ্যেই এটি উৎপাদনের উপযোগী হবে। এছাড়া তিতাস-৩০ কূপটি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে উৎপাদনে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। অন্যদিকে, বাখরাবাদ-১১ কূপের কাজ শুরু হবে তিতাস-৩১ নম্বর কূপের খনন সমাপ্তির পর।
গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে তিতাস-৩১-এর গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯ এপ্রিল শুরু হওয়া এই কূপটির লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৬০০ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এর গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। এই কূপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার পাশাপাশি নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এখানে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত থাকতে পারে।
বিজিএফসিএলের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের বর্তমানে আনুমানিক মজুত দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট। তবে নতুন কূপগুলোর খনন ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত হলে মজুতের পরিমাণ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে। তিতাস-৩১ সহ অন্য কূপগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রকৌশলীরা ভূতাত্ত্বিক জটিলতা এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে তিতাস-২৮ সহ মোট পাঁচটি কূপ চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে বিজিএফসিএল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উদ্বোধনের পরপরই কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে আমদানি-নির্ভরতার চাপ কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৪ হাজার ৫০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে।





















