ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপের সেরা মেসিই, বিতর্কে ঘি ঢাললেন ইয়ামাল তেরো বছরের অপ্রতিমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা ও সামাজিক নীরবতা নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন না যারা, প্রজ্ঞাপন জারি দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকায় ফিরছে বাটেক্সপো ২০২৬ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ঝরল চার প্রাণ আইআইটি মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মানিকগঞ্জে প্রবাসীসহ তিনজনের মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ নিখোঁজ কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে নেমেছে পুলিশ মিছিলের প্রস্তুতির সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা ১৭ বছরে প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্যদের পাস করানো হয়েছে: রিজভী

তেরো বছরের অপ্রতিমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা ও সামাজিক নীরবতা

  • আপডেট সময় : ০৭:১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তেরো বছর বয়সী অপ্রতিমের পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা আর ভবিষ্যতের অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই জীবন অকালেই হারিয়ে গেছে, আর এখন সমাজ ও রাষ্ট্র তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত। অপ্রতিমের মতো একটি শিশুর এই পরিণতি আমাদের জন্য চরম এক ব্যর্থতা। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহানুভূতি বা শোক প্রকাশের চেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা আজও একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

একটি শিশু যখন নিখোঁজ হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক যন্ত্র কেন তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে না—সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যখন মন্ত্রী বা দায়িত্বশীলরা কবিতা কিংবা সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন একটি শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় না। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে, কিন্তু একজন মায়ের কাছে এই আইনি প্রক্রিয়া বা সান্ত্বনার বাণী কোনো কাজে আসে না। তার কাছে সন্তানের উপস্থিতি মানেই পৃথিবী, যা চিরতরে হারিয়ে গেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া বা বিচার বিভাগ তার কাজ করবে, তবে এর পাশাপাশি সামাজিক নীরবতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদের সংস্কৃতিকে দায়ী করা প্রয়োজন। শিশু অপ্রতিম কোনো নির্দিষ্ট দলের বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ছিল না, সে ছিল একটি শিশু—মানুষ। অথচ তার মৃত্যুকে ঘিরেও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মৃত শিশুকে নিয়ে রাজনীতি না করে তাকে একজন মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।

আজ অপ্রতিমের ঘরে তার ব্যবহৃত স্কুলব্যাগটি নীরব, কলমের কালি ফুরিয়ে গেছে আর বইয়ের পাতাগুলো বন্ধ হয়ে আছে। তার পরিবারের নিথর নীরবতা রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করে। আমরা কি এমন একটি সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যেখানে তেরো বছরের একটি শিশু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারে না? এই প্রশ্নটিই এখন প্রতিটি নাগরিকের মনে, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দাবি যেন কেবল খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি কাউকে অপরাধী ঘোষণা করছি না; তদন্ত তার কাজ করুক, আদালত তার কাজ করুক—কিন্তু আমি নীরবতাকে অভিযুক্ত করছি, সেই সামাজিক নীরবতাকে, সেই রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে, সেই অভ্যাসকে যেখানে একটি শিশুর মৃত্যু কয়েক ঘণ্টার শিরোনাম হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সংখ্যাকে আজ আমি শহরের সব সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চাই, কারণ তেরো বছর বয়সে একটি ছেলের পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুর মুখ, মায়ের রান্নাঘর, পরীক্ষার খাতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য নির্বোধ স্বপ্ন; অথচ এই দেশ তাকে তার ভবিষ্যৎসহ গিলে ফেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপ্রতিম, তোমার জন্য কোনো স্মৃতিসৌধ চাই না, কোনো ফুলের মালা চাই না, কোনো মন্ত্রী এসে তোমার মা বাবার কাঁধে হাত রাখুক সেটাও চাই না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রীরা মাধবীদের নিয়ে কবিতা লিখতে ব্যস্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সাহিত্যজীবন খুঁজে বেড়ান আটপৌরে শাড়ি পরা বউদিদের কাছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তেরো বছরের অপ্রতিমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা ও সামাজিক নীরবতা

আপডেট সময় : ০৭:১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেরো বছর বয়সী অপ্রতিমের পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা আর ভবিষ্যতের অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই জীবন অকালেই হারিয়ে গেছে, আর এখন সমাজ ও রাষ্ট্র তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত। অপ্রতিমের মতো একটি শিশুর এই পরিণতি আমাদের জন্য চরম এক ব্যর্থতা। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহানুভূতি বা শোক প্রকাশের চেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা আজও একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

একটি শিশু যখন নিখোঁজ হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক যন্ত্র কেন তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে না—সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যখন মন্ত্রী বা দায়িত্বশীলরা কবিতা কিংবা সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন একটি শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় না। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে, কিন্তু একজন মায়ের কাছে এই আইনি প্রক্রিয়া বা সান্ত্বনার বাণী কোনো কাজে আসে না। তার কাছে সন্তানের উপস্থিতি মানেই পৃথিবী, যা চিরতরে হারিয়ে গেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া বা বিচার বিভাগ তার কাজ করবে, তবে এর পাশাপাশি সামাজিক নীরবতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদের সংস্কৃতিকে দায়ী করা প্রয়োজন। শিশু অপ্রতিম কোনো নির্দিষ্ট দলের বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ছিল না, সে ছিল একটি শিশু—মানুষ। অথচ তার মৃত্যুকে ঘিরেও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মৃত শিশুকে নিয়ে রাজনীতি না করে তাকে একজন মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।

আজ অপ্রতিমের ঘরে তার ব্যবহৃত স্কুলব্যাগটি নীরব, কলমের কালি ফুরিয়ে গেছে আর বইয়ের পাতাগুলো বন্ধ হয়ে আছে। তার পরিবারের নিথর নীরবতা রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করে। আমরা কি এমন একটি সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যেখানে তেরো বছরের একটি শিশু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারে না? এই প্রশ্নটিই এখন প্রতিটি নাগরিকের মনে, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দাবি যেন কেবল খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি কাউকে অপরাধী ঘোষণা করছি না; তদন্ত তার কাজ করুক, আদালত তার কাজ করুক—কিন্তু আমি নীরবতাকে অভিযুক্ত করছি, সেই সামাজিক নীরবতাকে, সেই রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে, সেই অভ্যাসকে যেখানে একটি শিশুর মৃত্যু কয়েক ঘণ্টার শিরোনাম হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সংখ্যাকে আজ আমি শহরের সব সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চাই, কারণ তেরো বছর বয়সে একটি ছেলের পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুর মুখ, মায়ের রান্নাঘর, পরীক্ষার খাতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য নির্বোধ স্বপ্ন; অথচ এই দেশ তাকে তার ভবিষ্যৎসহ গিলে ফেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপ্রতিম, তোমার জন্য কোনো স্মৃতিসৌধ চাই না, কোনো ফুলের মালা চাই না, কোনো মন্ত্রী এসে তোমার মা বাবার কাঁধে হাত রাখুক সেটাও চাই না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রীরা মাধবীদের নিয়ে কবিতা লিখতে ব্যস্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সাহিত্যজীবন খুঁজে বেড়ান আটপৌরে শাড়ি পরা বউদিদের কাছে।