মনপুরায় মসজিদের হিসাব নিয়ে শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:০২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
ভোলার মনপুরা উপজেলায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী আব্দুজ জাহের উপজেলার দক্ষিণ রহমানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাঁ কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব তুলে ধরছিলেন। তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়মিত মুসল্লি ও শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার তখন বিল্লাল হোসেনকে বিষয়টি দায়িত্ব নিয়ে দেখার পরামর্শ দেন। এর জের ধরে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার ও সিরাজ সরদারসহ বেশ কয়েকজন মিলে জাহের মাস্টার ও তার ছেলে সুমন ও নূর হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে জাহের মাস্টার গুরুতর আহত হন এবং তার পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়।
হামলার শিকার শিক্ষক আব্দুজ জাহের জানান, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদের উন্নয়নে বিনা পারিশ্রমিকে তার ছেলেরা শ্রম দিয়েছে। শুধু কাজের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেওয়ার কারণেই তার ও তার ছেলেদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তিনি লজ্জিত। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কাম্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত হামলাকারীদের বিচার দাবি করেছেন।























