দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘সুদূরপ্রসারী রূপরেখা’ গ্রহণ উ. কোরিয়া-চীনের
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 1
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সাম্প্রতিক পিয়ংইয়ং সফরে উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে একটি ‘সুদূরপ্রসারী রূপরেখা’ গ্রহণ করেছেন বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনসহ একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করার পর গত সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া সফর করেন।
এ ধরনের সফর চীনা নেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সি চিনপিংয়ের এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পেরে গভীর সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে, দুই দিনের এই সফরে উত্তর কোরিয়া ও চীন তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে এবং উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্ককে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলগত সম্পর্ক হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সফরকালে সি চিনপিং ও কিম জং উন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় ক্যাডার প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় ঘুরে দেখেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি তারা একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। এরপর কোরীয় যুদ্ধে নিহত ও অংশগ্রহণকারী চীনা সেনাদের সম্মানে নির্মিত ‘ফ্রেন্ডশিপ টাওয়ার’ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান।
স্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সফরে যাওয়া সি চিনপিংকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
সফর শেষে কিম জং উনকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, সফর শেষে সি চিনপিং কিম জং উনকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানান।
সি চিনপিং তার চিঠিতে বলেন, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা, যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিকসহ বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।
মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সি বলেছেন যে তিনি ‘নতুন যুগে’ চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে কিম জং উনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কূটনৈতিক, আইন প্রয়োগকারী ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষক হং মিন বলেছেন, সামরিক ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে চীন সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও রাশিয়া থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তরের বর্তমান অবস্থা সরাসরি মূল্যায়ন করতে চাইছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন হয়তো উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ভেতরে রাশিয়াপন্থী ও চীনপন্থী গোষ্ঠী বা নেটওয়ার্কগুলোর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহেরও আশা করতে পারে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

















