ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর দৃষ্টিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের “সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী”

  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 99
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ আজ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। সেখানে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ভোটের প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

“অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান – লাইকলি বাংলাদেশ’স নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার” (তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার – বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী) শীর্ষক নিবন্ধটিতে নির্বাচনের আগের বেশ কিছু জনমত জরিপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের আগে ব্লুমবার্গ, টাইম এবং দ্য ইকোনমিস্ট-এর মতো বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানকে দৌঁড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করার পর ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ও তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইনোভিশন কনসাল্টিং’ পরিচালিত অন্য একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখন তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন, আর ২২.৫ শতাংশ মানুষ আশা করছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি নামে পরিচিত তরুণরা এই নির্বাচনে বড় নির্ধারক হবে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “এই নির্বাচনে ভোটারদের একটি বিশাল অংশ জেন-জি প্রজন্মের, যার অর্থ বাংলাদেশের তরুণরাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবে।” এতে আরও বলা হয়, “অনেক জেন-জি ভোটার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, বিশেষ করে যেগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।”

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তারেক রহমানের সাথে কথা বলেন টাঙ্গাইলে একটি নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে বাসে। এর আগে তিনি সিরাজগঞ্জে আরেকটি সমাবেশ শেষ করেছিলেন। সেখানে তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

জেন-জি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, তারা জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি সেক্টর এবং জব মার্কেটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যা আমার বিশ্বাস জেন-জি-এর কাছে জোরালোভাবে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। আজকের পরিবেশ দেখলেই বুঝতে পারবেন যে, সভায় উপস্থিতদের বেশিরভাগই ছিলেন জেন-জি।”

তারেক রহমান আরও জানান যে, “দ্য প্ল্যান” নামক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি তরুণদের কথা শোনেন, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তাভাবনা, উদ্বেগ ও ধারণা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের সাথে যুক্ত হতে সত্যিই পছন্দ করি।”

দ্য ডিপ্লোম্যাট উল্লেখ করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পররাষ্ট্রনীতি ছিল ভারতমুখী, এবং তখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত সবার নজর ছিল বাংলাদেশের ওপর। তারেক রহমানের কাছে তার পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় স্বার্থই সবার আগে।”

তিনি বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি। আমরা অর্থনীতি-ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দেব যা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমরা বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধায় বিশ্বাস করি। আমরা যে দেশের সাথেই যুক্ত হই না কেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ অবশ্যই প্রথমে থাকতে হবে।”

জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে উৎসাহিত করবে। “আমরা আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা বজায় রাখব এবং সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করব,” বলেন তিনি।

ভোটের বিষয়ে দ্য ডিপ্লোম্যাট তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, জেন-জি-এর একটি অংশ বিশেষ করে ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (NCP)-র প্রতি অনুরাগী এবং তারা আগামী দিনে সংসদে ও রাজপথে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। এর জবাবে তিনি বলেন, “আমি কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, অন্যরা অন্যভাবে যাচ্ছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কার পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো।”

বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতিকে “অলীক স্বপ্ন” কি না এবং সস্তা শ্রম ও গার্মেন্টস দিয়ে এটি সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স বিএনপি সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিল। “এখন আমরা আইটি সেক্টরের ওপর গুরুত্ব দেব। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার এবং এসএমই খাতের ওপরও নজর দেব।”

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ খাদ্য খাতে বিশাল সম্ভাবনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও শাকসবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির (Creative Economy) সুযোগগুলোও অন্বেষণ করছি।”

ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে তিনি বলেন, “আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তার দল এমন একটি পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যেতে চায় যেখানে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না এবং “মানুষ রাতে নির্ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে এবং অর্থনীতি সঠিকভাবে চলবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণকে অগ্রাধিকার দেবে। “অতীতের কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, আগে ২০ ফুট খনন করলেই পানি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন ৩০০ ফুট ড্রিল করেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং এটি ‘খুব বেশি উচ্চাভিলাষী’ নাকি ‘অনিবার্য’?”

নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের ৩১-দফা সনদ বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মতো সাতটি বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

তিনি উপসংহারে বলেন, “আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখব। আমরা জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব—দেশের মানুষের কাছে এটাই আমার প্রতিশ্রুতি।”

সোর্সthe diplomat

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর দৃষ্টিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের “সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী”

আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ আজ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। সেখানে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ভোটের প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

“অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান – লাইকলি বাংলাদেশ’স নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার” (তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার – বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী) শীর্ষক নিবন্ধটিতে নির্বাচনের আগের বেশ কিছু জনমত জরিপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের আগে ব্লুমবার্গ, টাইম এবং দ্য ইকোনমিস্ট-এর মতো বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানকে দৌঁড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করার পর ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ও তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইনোভিশন কনসাল্টিং’ পরিচালিত অন্য একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখন তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন, আর ২২.৫ শতাংশ মানুষ আশা করছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি নামে পরিচিত তরুণরা এই নির্বাচনে বড় নির্ধারক হবে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “এই নির্বাচনে ভোটারদের একটি বিশাল অংশ জেন-জি প্রজন্মের, যার অর্থ বাংলাদেশের তরুণরাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবে।” এতে আরও বলা হয়, “অনেক জেন-জি ভোটার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, বিশেষ করে যেগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।”

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তারেক রহমানের সাথে কথা বলেন টাঙ্গাইলে একটি নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে বাসে। এর আগে তিনি সিরাজগঞ্জে আরেকটি সমাবেশ শেষ করেছিলেন। সেখানে তিনি অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

জেন-জি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, তারা জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি সেক্টর এবং জব মার্কেটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যা আমার বিশ্বাস জেন-জি-এর কাছে জোরালোভাবে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। আজকের পরিবেশ দেখলেই বুঝতে পারবেন যে, সভায় উপস্থিতদের বেশিরভাগই ছিলেন জেন-জি।”

তারেক রহমান আরও জানান যে, “দ্য প্ল্যান” নামক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি তরুণদের কথা শোনেন, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের চিন্তাভাবনা, উদ্বেগ ও ধারণা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের সাথে যুক্ত হতে সত্যিই পছন্দ করি।”

দ্য ডিপ্লোম্যাট উল্লেখ করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পররাষ্ট্রনীতি ছিল ভারতমুখী, এবং তখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত সবার নজর ছিল বাংলাদেশের ওপর। তারেক রহমানের কাছে তার পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় স্বার্থই সবার আগে।”

তিনি বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি। আমরা অর্থনীতি-ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দেব যা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমরা বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধায় বিশ্বাস করি। আমরা যে দেশের সাথেই যুক্ত হই না কেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ অবশ্যই প্রথমে থাকতে হবে।”

জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে উৎসাহিত করবে। “আমরা আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা বজায় রাখব এবং সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করব,” বলেন তিনি।

ভোটের বিষয়ে দ্য ডিপ্লোম্যাট তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, জেন-জি-এর একটি অংশ বিশেষ করে ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (NCP)-র প্রতি অনুরাগী এবং তারা আগামী দিনে সংসদে ও রাজপথে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। এর জবাবে তিনি বলেন, “আমি কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করি না। আমরা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, অন্যরা অন্যভাবে যাচ্ছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কার পরিকল্পনা তাদের জন্য ভালো।”

বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতিকে “অলীক স্বপ্ন” কি না এবং সস্তা শ্রম ও গার্মেন্টস দিয়ে এটি সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০ কোটি মানুষের মধ্যে ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স বিএনপি সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিল। “এখন আমরা আইটি সেক্টরের ওপর গুরুত্ব দেব। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার এবং এসএমই খাতের ওপরও নজর দেব।”

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ খাদ্য খাতে বিশাল সম্ভাবনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পর্যাপ্ত মাছ ও শাকসবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির (Creative Economy) সুযোগগুলোও অন্বেষণ করছি।”

ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে তিনি বলেন, “আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তার দল এমন একটি পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যেতে চায় যেখানে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না এবং “মানুষ রাতে নির্ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে এবং অর্থনীতি সঠিকভাবে চলবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণকে অগ্রাধিকার দেবে। “অতীতের কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, আগে ২০ ফুট খনন করলেই পানি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন ৩০০ ফুট ড্রিল করেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং এটি ‘খুব বেশি উচ্চাভিলাষী’ নাকি ‘অনিবার্য’?”

নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আমাদের ৩১-দফা সনদ বাস্তবায়নে কাজ করব। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মতো সাতটি বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

তিনি উপসংহারে বলেন, “আমরা জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনব। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রাখব। আমরা জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করব—দেশের মানুষের কাছে এটাই আমার প্রতিশ্রুতি।”

সোর্সthe diplomat