ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরে কেউ আসতে চাইলে প্রস্তুত, হুশিয়ারি দিলেন নাহিদ ইসলাম আপা আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত: নাহিদ ইসলাম গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামাতে চাইছে বিদেশের অপশক্তি: রুহুল কবির রিজভী

নজরুলের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ

  • আপডেট সময় : ০১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 29
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

স্বাধীনতার পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠা ও তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণে তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন।

মফিজ ইমাম মিলন বাসস’কে জানান, ১৯৭৬ সালের ২৪ মে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সেনাবাহিনীর সম্মানজনক পদক ‘আর্মি ক্রেস্ট’ উপহার দেন। একই বছর তাঁর সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কাজী সব্যসাচী এবং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী কবি’র মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশের মাটিতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। ৩০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় কবির চিরনিদ্রার স্থান বাংলাদেশেই নিশ্চিত হয় এবং দেশের মানুষ তাঁকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধারণ করার সুযোগ পায়।

মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ও মানবতাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও বিদ্রোহী চেতনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কবির মরদেহ যদি সে সময় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় কবিকে নিজ ভূখণ্ডে ধারণ করার ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।

তিনি জানান, এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শামীম, যিনি তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক স্টোরকিপারের ছেলে। তাঁর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি পরে শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

মফিজ ইমাম মিলন বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃজনশীল জীবনের সময়কাল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ব্যক্তি জীবন এবং কর্মজীবন-উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি প্রায় ৪ হাজার গান, ৩টি উপন্যাস, ১৯টি ছোটগল্প এবং ৫টি প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পর কবির স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হল (টাউন হল), রাজেন্দ্র কলেজ, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ, ঈশান ইনস্টিটিউশন, শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবিরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি কমলাপুরের ময়েজ মঞ্জিলের বকুলতলা ও পুকুরঘাট আজও কবির স্মৃতি বহন করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আনার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত, কবিকে সংবর্ধনা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নজরুলের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট সময় : ০১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

স্বাধীনতার পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠা ও তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণে তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন।

মফিজ ইমাম মিলন বাসস’কে জানান, ১৯৭৬ সালের ২৪ মে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সেনাবাহিনীর সম্মানজনক পদক ‘আর্মি ক্রেস্ট’ উপহার দেন। একই বছর তাঁর সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কাজী সব্যসাচী এবং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী কবি’র মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশের মাটিতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। ৩০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় কবির চিরনিদ্রার স্থান বাংলাদেশেই নিশ্চিত হয় এবং দেশের মানুষ তাঁকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধারণ করার সুযোগ পায়।

মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ও মানবতাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও বিদ্রোহী চেতনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কবির মরদেহ যদি সে সময় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় কবিকে নিজ ভূখণ্ডে ধারণ করার ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।

তিনি জানান, এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শামীম, যিনি তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক স্টোরকিপারের ছেলে। তাঁর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি পরে শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

মফিজ ইমাম মিলন বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃজনশীল জীবনের সময়কাল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ব্যক্তি জীবন এবং কর্মজীবন-উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি প্রায় ৪ হাজার গান, ৩টি উপন্যাস, ১৯টি ছোটগল্প এবং ৫টি প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পর কবির স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হল (টাউন হল), রাজেন্দ্র কলেজ, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ, ঈশান ইনস্টিটিউশন, শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবিরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি কমলাপুরের ময়েজ মঞ্জিলের বকুলতলা ও পুকুরঘাট আজও কবির স্মৃতি বহন করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আনার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত, কবিকে সংবর্ধনা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস