ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

নজরুলের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ

  • আপডেট সময় : ০১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

স্বাধীনতার পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠা ও তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণে তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন।

মফিজ ইমাম মিলন বাসস’কে জানান, ১৯৭৬ সালের ২৪ মে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সেনাবাহিনীর সম্মানজনক পদক ‘আর্মি ক্রেস্ট’ উপহার দেন। একই বছর তাঁর সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কাজী সব্যসাচী এবং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী কবি’র মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশের মাটিতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। ৩০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় কবির চিরনিদ্রার স্থান বাংলাদেশেই নিশ্চিত হয় এবং দেশের মানুষ তাঁকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধারণ করার সুযোগ পায়।

মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ও মানবতাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও বিদ্রোহী চেতনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কবির মরদেহ যদি সে সময় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় কবিকে নিজ ভূখণ্ডে ধারণ করার ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।

তিনি জানান, এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শামীম, যিনি তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক স্টোরকিপারের ছেলে। তাঁর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি পরে শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

মফিজ ইমাম মিলন বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃজনশীল জীবনের সময়কাল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ব্যক্তি জীবন এবং কর্মজীবন-উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি প্রায় ৪ হাজার গান, ৩টি উপন্যাস, ১৯টি ছোটগল্প এবং ৫টি প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পর কবির স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হল (টাউন হল), রাজেন্দ্র কলেজ, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ, ঈশান ইনস্টিটিউশন, শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবিরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি কমলাপুরের ময়েজ মঞ্জিলের বকুলতলা ও পুকুরঘাট আজও কবির স্মৃতি বহন করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আনার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত, কবিকে সংবর্ধনা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নজরুলের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট সময় : ০১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

স্বাধীনতার পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠা ও তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণে তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন।

মফিজ ইমাম মিলন বাসস’কে জানান, ১৯৭৬ সালের ২৪ মে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সেনাবাহিনীর সম্মানজনক পদক ‘আর্মি ক্রেস্ট’ উপহার দেন। একই বছর তাঁর সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কাজী সব্যসাচী এবং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী কবি’র মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশের মাটিতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। ৩০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় কবির চিরনিদ্রার স্থান বাংলাদেশেই নিশ্চিত হয় এবং দেশের মানুষ তাঁকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধারণ করার সুযোগ পায়।

মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ও মানবতাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও বিদ্রোহী চেতনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কবির মরদেহ যদি সে সময় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় কবিকে নিজ ভূখণ্ডে ধারণ করার ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।

তিনি জানান, এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শামীম, যিনি তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক স্টোরকিপারের ছেলে। তাঁর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি পরে শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

মফিজ ইমাম মিলন বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃজনশীল জীবনের সময়কাল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ব্যক্তি জীবন এবং কর্মজীবন-উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি প্রায় ৪ হাজার গান, ৩টি উপন্যাস, ১৯টি ছোটগল্প এবং ৫টি প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পর কবির স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হল (টাউন হল), রাজেন্দ্র কলেজ, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ, ঈশান ইনস্টিটিউশন, শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবিরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি কমলাপুরের ময়েজ মঞ্জিলের বকুলতলা ও পুকুরঘাট আজও কবির স্মৃতি বহন করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আনার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, একুশে পদকে ভূষিত, কবিকে সংবর্ধনা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস