পুলিশ: মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী চক্র যুক্ত হতে পারে
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের আড়ালে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যেই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোরও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা রাজপথ ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করায় এবং আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধিতে পুলিশের সন্দেহ হয় যে কোনো বিশেষ মহল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
বিক্ষোভের জেরে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। মহিদুল ইসলাম দাবি করেন, কোনো লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি এবং পুলিশ কাউকে আটকও করেনি। পুলিশের কোনো সদস্য এতে আহত হননি। মিরপুর-১১ নম্বরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ। এ সময় দায়িত্বরত সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শনিবার থেকে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার সকাল থেকে বিক্ষোভ আরও বেগবান হয় এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন পুনরায় উত্তপ্ত না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি এখন সরকারি বোর্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



















