ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভিয়েতনামের বিমান শিল্পে ডিজিটাল প্রযুক্তি আনছে এয়ারবাস তেহরানে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ ইরানিদের মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো হবে: প্রধানমন্ত্রী সাইফের সঙ্গেও কথা বলেন না কারিনা, রাত ১০টার পর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চল সাতক্ষীরায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক নারী ইউটিউব দেখে জাল নোটের কারখানা গড়ে আটক চার সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে শেখ সাদীর জীবনদর্শন খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী: থাকছে বিশেষ কর্মসূচি নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে কর্মকৌশল পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের

ভিয়েতনামের বিমান শিল্পে ডিজিটাল প্রযুক্তি আনছে এয়ারবাস

  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ভিয়েতনামের বিমান চলাচল ও মহাকাশশিল্পের আধুনিকায়নে নতুন করে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৪ নভেম্বর হ্যানয়ে আয়োজিত ‘ভিয়েতনাম অ্যারোস্পেস ফোরাম’-এ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। ভিয়েতনামে নিজেদের কার্যক্রমের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এয়ারবাস এবারের ফোরামে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যোগ দেয়। দেশটির বিমান পরিবহন খাতের পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশশিল্পের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রথম সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এয়ারবাসের ডিজিটাল সেবা শাখা ‘স্কাইওয়াইজ’, ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এফপিটির মধ্যে। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো হবে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সিডিউলিং, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে উড়োজাহাজের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ উড়োজাহাজ পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারকটি হয়েছে এয়ারবাস ও এফপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। এই দুই বছর মেয়াদি অংশীদারত্বের আওতায় পরবর্তী প্রজন্মের দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তোলার কাজ চলবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এয়ারবাসে ইন্টার্নশিপ, শিল্পকারখানা পরিদর্শন এবং বিশেষজ্ঞদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট উটার ভ্যান ওয়ার্শ জানিয়েছেন, ভিয়েতনামের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি মহাকাশশিল্পের বিকাশে ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। নতুন এই চুক্তিগুলো দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

১৯৮৬ সালে ভিয়েতনামে যাত্রা শুরু করা এয়ারবাস বর্তমানে দেশটির বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম প্রধান অংশীদার। বর্তমানে ভিয়েতনামের বিভিন্ন এয়ারলাইনস প্রায় ২৩০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে এবং আরও ২২০টির বেশি উড়োজাহাজের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে আগামী ২০ বছরে ভিয়েতনামে প্রায় এক হাজার নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। কেবল বাণিজ্যিক বিমান নয়, ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা খাতের সি২৯৫ পরিবহন বিমান এবং বিভিন্ন উপগ্রহ উন্নয়ন প্রকল্পেও এয়ারবাস কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিয়েতনামের বিমান শিল্পে ডিজিটাল প্রযুক্তি আনছে এয়ারবাস

আপডেট সময় : ০২:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ভিয়েতনামের বিমান চলাচল ও মহাকাশশিল্পের আধুনিকায়নে নতুন করে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৪ নভেম্বর হ্যানয়ে আয়োজিত ‘ভিয়েতনাম অ্যারোস্পেস ফোরাম’-এ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। ভিয়েতনামে নিজেদের কার্যক্রমের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এয়ারবাস এবারের ফোরামে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যোগ দেয়। দেশটির বিমান পরিবহন খাতের পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশশিল্পের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রথম সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এয়ারবাসের ডিজিটাল সেবা শাখা ‘স্কাইওয়াইজ’, ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এফপিটির মধ্যে। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো হবে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সিডিউলিং, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে উড়োজাহাজের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ উড়োজাহাজ পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারকটি হয়েছে এয়ারবাস ও এফপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। এই দুই বছর মেয়াদি অংশীদারত্বের আওতায় পরবর্তী প্রজন্মের দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তোলার কাজ চলবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এয়ারবাসে ইন্টার্নশিপ, শিল্পকারখানা পরিদর্শন এবং বিশেষজ্ঞদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট উটার ভ্যান ওয়ার্শ জানিয়েছেন, ভিয়েতনামের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি মহাকাশশিল্পের বিকাশে ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। নতুন এই চুক্তিগুলো দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

১৯৮৬ সালে ভিয়েতনামে যাত্রা শুরু করা এয়ারবাস বর্তমানে দেশটির বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম প্রধান অংশীদার। বর্তমানে ভিয়েতনামের বিভিন্ন এয়ারলাইনস প্রায় ২৩০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে এবং আরও ২২০টির বেশি উড়োজাহাজের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে আগামী ২০ বছরে ভিয়েতনামে প্রায় এক হাজার নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। কেবল বাণিজ্যিক বিমান নয়, ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা খাতের সি২৯৫ পরিবহন বিমান এবং বিভিন্ন উপগ্রহ উন্নয়ন প্রকল্পেও এয়ারবাস কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে।