ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাঠের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন টেনেরিফের ফুটবলার হেসুস দে মিগেল আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, ইন্ধন দিচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জে প্রেমের বিয়ে নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪ প্রার্থীর নতুন ইতিহাস গড়ার পথে জয় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন চাঁদপুরে ১০০ মেধাবী শিক্ষার্থী পেলেন ১০ হাজার টাকা সহায়তা ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হলো শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারের মাঝে সহায়তার চাল বিতরণ দুই দফায় ৬ হাজার ৫৯৮ টাকা বাড়ল সোনার দাম

মাঠের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন টেনেরিফের ফুটবলার হেসুস দে মিগেল

  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবল মাঠে গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব টেনেরিফের ৩০ বছর বয়সি ফুটবলার হেসুস দে মিগেল। গত ২ নভেম্বর এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচের যোগ করা সময়ে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়। ম্যাচের স্কোর তখন ২-২ সমতায় ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওনো নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বেরিয়ে এসে উঁচুতে পা তুলে বল দখলের চেষ্টা করেন। এসময় ওনোর হাঁটু সরাসরি দে মিগেলের বুকে আঘাত করলে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্ত্রীর পাশাপাশি তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

মাঠের রেফারি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে ওনোকে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। রেফারির ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বল দখলের লড়াইয়ে গোলকিপার অতিরিক্ত শক্তি ও উঁচু পা ব্যবহার করেছিলেন, তবে সেখানে কোনো ইচ্ছাকৃত আঘাতের ইঙ্গিত ছিল না। বর্তমানে স্পেনের পুলিশ বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে বিচারিক তদন্তের আওতায় এনেছে। সান্তা ক্রুসের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি হোসে লুইস সানচেজ-হাউরেগি জানিয়েছেন, খেলা চলাকালীন সংঘর্ষের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে নিয়ম অনুযায়ী এমন মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় স্পেনের পুরো ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্দোরার মালিক ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা জেরার্ড পিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকেও দে মিগেলের পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই গোলকিপার হেসুস ওনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর সমালোচনা ও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনার ম্যাচগুলো স্থগিত করেছে। উয়েফাও এই সপ্তাহের সব ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দিয়েছে। ফুটবলীয় এই চ্যালেঞ্জটি স্বাভাবিক ছিল নাকি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ছিল, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও দাপ্তরিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে গোলকিপারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাঠের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন টেনেরিফের ফুটবলার হেসুস দে মিগেল

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফুটবল মাঠে গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব টেনেরিফের ৩০ বছর বয়সি ফুটবলার হেসুস দে মিগেল। গত ২ নভেম্বর এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচের যোগ করা সময়ে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়। ম্যাচের স্কোর তখন ২-২ সমতায় ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওনো নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বেরিয়ে এসে উঁচুতে পা তুলে বল দখলের চেষ্টা করেন। এসময় ওনোর হাঁটু সরাসরি দে মিগেলের বুকে আঘাত করলে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্ত্রীর পাশাপাশি তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

মাঠের রেফারি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে ওনোকে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। রেফারির ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বল দখলের লড়াইয়ে গোলকিপার অতিরিক্ত শক্তি ও উঁচু পা ব্যবহার করেছিলেন, তবে সেখানে কোনো ইচ্ছাকৃত আঘাতের ইঙ্গিত ছিল না। বর্তমানে স্পেনের পুলিশ বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে বিচারিক তদন্তের আওতায় এনেছে। সান্তা ক্রুসের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি হোসে লুইস সানচেজ-হাউরেগি জানিয়েছেন, খেলা চলাকালীন সংঘর্ষের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে নিয়ম অনুযায়ী এমন মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় স্পেনের পুরো ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্দোরার মালিক ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা জেরার্ড পিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকেও দে মিগেলের পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই গোলকিপার হেসুস ওনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর সমালোচনা ও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনার ম্যাচগুলো স্থগিত করেছে। উয়েফাও এই সপ্তাহের সব ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালনের নির্দেশ দিয়েছে। ফুটবলীয় এই চ্যালেঞ্জটি স্বাভাবিক ছিল নাকি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ছিল, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও দাপ্তরিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে গোলকিপারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।