ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০১৭
  • / 864
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেননিজ বিভাগের সহকর্মী রুখসানা পরভীন। বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে একই অভিযোগে গত ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের কাছে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এই মানসিক নির্যাতনের প্রতিকারও দাবী করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. রুখসানা পারভীন। অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন রুখসানা পারভীনের পিএইচডি সুপারভাইজার ছিলেন।

রুখসানা পারভীন সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন, ‘আমার বিভাগের শিক্ষক ও সহকর্মী প্রফেসর রুহুল আমিন স্যারকে ২০১২ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি সুপারভাইজার হিসেবে গ্রহণ করি। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে আমাকে একাডেমিক ও যৌন হয়রানি করছে। বিশেষ করে বিগত ছয় মাস আমাকে মারাত্মকভাবে যৌন হয়রানি করে। যার কারণে আমি এবছরের এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখে পিএইচডি সুপারভাইজার হিসেবে প্রফেসর রুহুল আমিনের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেই।

যৌন হয়রানির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি থিসিসের কাজের জন্য আমাকে ডাকেন খুব সকালে তথা কাক ডাকা ভোরে বা বিকালে যখন ক্যাম্পাসে, বিভাগের কোন মানুষ থাকে না। রুহুল আমিন স্যার বলেন, আমি সুপারভাইজার হয়ে যদি আসতে পারি, তুমি কেন আসতে পারবে না। এসময়গুলোতে তার চেম্বারে ডেকে দরজা-জানলা বন্ধ করে আকার ইঙ্গিতে, ইশারা ইঙ্গিতে ও তার ল্যাপটপে অশ্লীল, অপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও দেখানো মাধ্যেমে আমাকে যৌন হয়রানি করেছেন। ভিডিও-এর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাকে একটা ভিডিও সেক্স দেখানো বা একটা অশ্লীল ভিডিও দেখানোর অর্থ হচ্ছে আমাকে উত্তজিত করা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা বিবেক সম্পূন্ন মানুষ আশাকরি এর চেয়ে বেশি কিছু বলার দরকার হবে না। আর বিস্তারিত বিষয় তদন্ত কমিটির কাছে বলবো।’

রুখসানা পারভীন আরো বলেন, ‘ ‘সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল তারিখে তিনি আমাকে সন্ধ্যার পর তার বাসায় যেতে বলে, যার কারণে আমি বাধ্য হয়ে তার সাথে গবেষণা কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাকে সুপারভাইজার হিসেবে বাদ দেওয়ায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে অন্যশিক্ষকদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানী ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় তথা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অন্যদেরকে বলে দেয় আমার যেন কেউ সুপারভাইজার না হয়। ’
অভিযুক্ত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল আমিন বলেন, ‘এটা মিথ্য, বানোয়াট অভিযোগ। আমি অপরাজনীতির শিকার হয়েছি। এবিষয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করবো।’

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে, এব্যাপারে আমাকে কিছুই জানায়নি। আর এবিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগও পায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০১৭

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেননিজ বিভাগের সহকর্মী রুখসানা পরভীন। বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে একই অভিযোগে গত ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের কাছে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এই মানসিক নির্যাতনের প্রতিকারও দাবী করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. রুখসানা পারভীন। অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিন রুখসানা পারভীনের পিএইচডি সুপারভাইজার ছিলেন।

রুখসানা পারভীন সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন, ‘আমার বিভাগের শিক্ষক ও সহকর্মী প্রফেসর রুহুল আমিন স্যারকে ২০১২ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি সুপারভাইজার হিসেবে গ্রহণ করি। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে আমাকে একাডেমিক ও যৌন হয়রানি করছে। বিশেষ করে বিগত ছয় মাস আমাকে মারাত্মকভাবে যৌন হয়রানি করে। যার কারণে আমি এবছরের এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখে পিএইচডি সুপারভাইজার হিসেবে প্রফেসর রুহুল আমিনের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেই।

যৌন হয়রানির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি থিসিসের কাজের জন্য আমাকে ডাকেন খুব সকালে তথা কাক ডাকা ভোরে বা বিকালে যখন ক্যাম্পাসে, বিভাগের কোন মানুষ থাকে না। রুহুল আমিন স্যার বলেন, আমি সুপারভাইজার হয়ে যদি আসতে পারি, তুমি কেন আসতে পারবে না। এসময়গুলোতে তার চেম্বারে ডেকে দরজা-জানলা বন্ধ করে আকার ইঙ্গিতে, ইশারা ইঙ্গিতে ও তার ল্যাপটপে অশ্লীল, অপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও দেখানো মাধ্যেমে আমাকে যৌন হয়রানি করেছেন। ভিডিও-এর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাকে একটা ভিডিও সেক্স দেখানো বা একটা অশ্লীল ভিডিও দেখানোর অর্থ হচ্ছে আমাকে উত্তজিত করা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা বিবেক সম্পূন্ন মানুষ আশাকরি এর চেয়ে বেশি কিছু বলার দরকার হবে না। আর বিস্তারিত বিষয় তদন্ত কমিটির কাছে বলবো।’

রুখসানা পারভীন আরো বলেন, ‘ ‘সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল তারিখে তিনি আমাকে সন্ধ্যার পর তার বাসায় যেতে বলে, যার কারণে আমি বাধ্য হয়ে তার সাথে গবেষণা কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাকে সুপারভাইজার হিসেবে বাদ দেওয়ায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে অন্যশিক্ষকদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানী ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় তথা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অন্যদেরকে বলে দেয় আমার যেন কেউ সুপারভাইজার না হয়। ’
অভিযুক্ত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল আমিন বলেন, ‘এটা মিথ্য, বানোয়াট অভিযোগ। আমি অপরাজনীতির শিকার হয়েছি। এবিষয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করবো।’

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে, এব্যাপারে আমাকে কিছুই জানায়নি। আর এবিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগও পায়নি।