রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা যা বললেন
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
- / 156
সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধিঃ
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেধে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের পাশাপাশি তাদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে তার সাথে ফের দেখা করতে চান তারা।
নুসরাতের মা শিরীন আক্তার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি পূণরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়ের পর ফেনীর সোনাগাজীর নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানান শিরীন আক্তার।
তিনি বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীর কারণে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার পেয়েছি। তার সঙ্গে আবার দেখা করেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, মেয়েটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সম্ভব হয়নি। এর সুষ্ঠু বিচার হবে।
এসময় তিনি এই রায় উচ্চ আদালতে বহাল এবং দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের বাবা একেএম মুসা সন্তোষ করেন। সেই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়ার দাবি জানান তিনি।
এসময় তদন্ত দ্রুত শেষ করায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান মুসা।
মামলার বাদি নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, রায়ে আমরা শতভাগ সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ীত্ব নেয়ায় আমার বোন হত্যার ন্যায় বিচার চেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সময়ে আমাদেরকে ন্যায় বিচার উপহার দিয়েছেন। এজন্য আমরা তার প্রতি অকৃতজ্ঞ। রায় ঘোষণার পর আদালতে আসামিরা তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে। দোষীরা আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। আমরা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। ইতোমধ্যে আমাদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই জন্য ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবীকে ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। তিনি আমাদের কে বলেছিলেন আমাদের পাশে থাকবেন। তিনি কথা দিয়ে কথা রেখেছেন।
নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বলেন, আপুকে হারিয়ে যতটা কষ্ট পেয়েছি, আজকে এ রায়ের মাধ্যমে কিছুটা লাঘব হয়েছে। আমরা আজকের রায়ে শতভাগ সন্তুষ্ট। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। রায় দ্রুত কার্যকর করে যেন মানুষরূপী হয়েনাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।
নুসোতের দাদা বয়োবৃদ্ধ মাও. মোশাররফ হোসেন জানান, নুসরাত আমার কলিজার ধন ছিল। শরীরের মাংস নিয়ে সে কবরে যেতে পারেনি। মৃত্যুর আগে তার পোড়া যন্ত্রণা সে আর এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ বুঝবেনা। সবাই আমাকে বলছে খুনীদের ফাঁসি হয়েছে। আমি খুশি হয়েছি। আমিতো দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো। আমার ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিদের কে দেখবে? আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছিলাম আজ আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুলিশ, পিবিআই, সাংবাদিকদের ও বিচারক কে ধন্যবাদ জানাই।
মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অধ্যক্ষ সহ ১৬ আসামিকে মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।




















