ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, সমঝোতা ও সহনশীলতাই এখন দেশের মানুষের চাওয়া: রাষ্ট্রপতি পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিমানবন্দর ও বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা: যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে রাজ্যগুলো: নতুন আইনি ব্যাখ্যায় উদ্বেগ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর নতুন শিশুকে কোলে নিয়ে পরীমণির রহস্যময় পোস্ট, নেটপাড়ায় কৌতূহল আহসান উল্লাহ মাস্টার মামলা: আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশ ভিয়েতনামের তান সন নাত বিমানবন্দরে জাতীয় দিবসের ছুটিতে যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ বাড়বে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তিন আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমার ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে জাপানের বিশেষ দূত জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বা জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের মানবিক অনুদান ও সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য সাসাকাওয়ার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

জবাবে বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও দুই পক্ষ একমত পোষণ করেন। বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমার ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে জাপানের বিশেষ দূত জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বা জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের মানবিক অনুদান ও সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য সাসাকাওয়ার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

জবাবে বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও দুই পক্ষ একমত পোষণ করেন। বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।