সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত
- আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাই দুবাই। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি তাদের সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত রিয়াদ ও আবহা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। তবে ১৭ নভেম্বর থেকে এই দুই গন্তব্যের ফ্লাইটের টিকিট অনলাইনে বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর প্রকাশিত ফ্লাই দুবাইয়ের নিজস্ব ফ্লাইট সূচি থেকে এই তথ্য জানা গেছে। মূলত সৌদি আরবের বিমান চলাচল অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় தொடামাড় হামলার প্রেক্ষিতেই এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় কিছু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে সংস্থাটি। বর্তমানে জেদ্দা, গাসিম, হাইল, তাবুক ও তাইফ রুটে তাদের ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া আগামী ১০ নভেম্বর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইটের টিকিটও যাত্রীরা বুকিং করতে পারছেন।
তবে আলউলা, হুফুফ, জুফ, মদিনা, নজরান, নিওম, কাইসুমাহ ও ইয়ানবু গন্তব্যগুলোর জন্য আপাতত টিকিট বুকিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। ফলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অনেক শহরের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ এখনও সীমিত রয়েছে। অতীতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট সূচিতে দফায় দফায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে গত ৬ ও ৭ অক্টোবর আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন ৭ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৯ অক্টোবরের হামলায় তিন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ। ১০ অক্টোবরের হামলাটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী, যেখানে প্রথমে ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে। এসব হামলার জের ধরে অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই ঘটনায় প্রথমে ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। এতে দেশটির সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এদিকে সৌদি আরবের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। গত বৃহস্পতিবার ইয়াংবু ও শারুরাহ এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারির পর কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও পরে বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানায় সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সৌদিগামী যাত্রীদের ভ্রমণের পূর্বে নিজ নিজ এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ সময়সূচি ও বুকিংয়ের অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
























