ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

স্টার সিনেপ্লেক্সের আচরণে সরব ইকবাল, নিরব সৌদ

  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
  • / 148
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


আহমেদ তেপান্তর


ঈদ পরবর্তী গত ৩ মে দুটি সিনেমা একযোগে মুক্তি পায়। এর একটি মো. ইকবাল প্রযোজিত ও পরিচালিত ‘ডেডবডি’; অপরটি বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘শ্যামাকাব্য’। মুক্তির প্রথম দিনেই স্টার সিনেপ্লেক্সের বিমাতাসূলভ আচরণে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন সৌদ। তার সঙ্গে কিছু নাট্যাভিনেতাও যুক্ত হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ অবস্থায় দেশীয় সিনেমার প্রযোজকরা প্রতিনিয়ত যারা স্টারের খামখেয়ালীপূর্ণ আচরণের শিকার তারা কিছুটা প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম পান। কারণ এ মুহূর্তে দেশের সিনেমার বড় চেইন স্টার। চলতি বছরই তাদের আরো শাখা ওপেন হতে যাচ্ছে, ফলে দেশের সিনেমা মুক্তিতে স্টারকে জায়ান্টের ভূমিকায় দেখা যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এ কারণে মোশন পিকচার এসোসিয়েশনের সদস্য হয়েও নিজেদের মনগড়া নিয়মে চলছে স্টার। আর এসব নিয়মের বেড়াজালে পড়ে বেকায়দায় পড়েছেন দেশীয় প্রযোজকরা।

স্টারের অসঙ্গতি নিয়ে চাইলেই অভিযোগ করতে পারছেন না তারা। করলেও সরাসরি যথাযথ লোকের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না লগ্নিকারকরা। ফলে স্টার যেভাবে চাইছে সেভাবেই তাদের ইচ্ছে ও সুবিধা মাফিক শো টাইম এবং প্রজেকশন হল দেওয়া হচ্ছে। আর এসবের ব্যত্যয়ের প্রতিবাদমুখর হলেন প্রথম নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ। তবে তিনি শুরুতেই থেমে গেলেন। কেন থেকে গেলেন সেটা জানা না গেলেও, এটা অনুমেয় যে সরকারি অনুদানের সিনেমায় অহেতুক গলাবাজি বা প্রতিবাদী হয়ে আখেরে সম্পর্কের অবনতির ভয়। তিনি শুধু চুপ-ই থাকেন নি, একই সঙ্গে ‘ডেডবডি’ সিনেমার নির্মাতার সঙ্গে কোথাও তাকে একাত্মতা প্রকাশ করতেও দেখা যায়নি। এরমানে ধরে নেওয়া যায় সরকারি অনুদানের সিনেমা বলে দায় কম অথবা সিনেমার মেরিট দুর্বল।

একটা বিষয় পরিলক্ষিত হয় যে, ‘শ্যামাকাব্য’ সকলের অলক্ষেই মুক্তি পেয়েছিল। কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই সিনেমাটি মুক্তি পায়। অনুদানের সিনেমার আদর্শ নীতির ব্যত্যয় ঘটে। এতে অনুদানের সিনেমায় প্রযোজকের অর্থ লগ্নির একটা ব্যাপার থাকে সেটা হয়েছে বলে মনে হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের আদর্শ নীতি মেনে তিনটে সিনেমার নাম উল্লেখ করতেই হবে। এর একটি এস এ হক অলিকের ‘গলুই’, হৃদি হকের ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ এবং মুক্তিপ্রতিক্ষিত কবিরুল রানার ‘জলরঙ’। প্রত্যেকটা সিনেমাতেই সরকারি অনুদানের সমপরিমান অর্থের বেশি খরচের কারণে মুক্তিপ্রাপ্ত দুটো অনুদানের সিনেমার নির্মাণকে আরো পরিশীলিত করেছে। এর বিপরীতে ‘শ্যামাকাব্য’র খরচের হিসাবটাও যেমন চোখে কটকা লাগে তেমনি কমখরচে নির্মাণে খামতি থাকাও অমূলক নয়। আর এটা টের পেয়ে হয়তো নির্মাতা সৌদের স্টারের বিরুদ্ধে সরব কণ্ঠ ভাটা পড়ে। তবে এক্ষেত্রে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে সকল ধরনের অন্যায়-অবিচারের শিকার ‘ডেডবডি’ সিনেমার প্রযোজক-নির্মাতা ইকবাল উচ্চকণ্ঠ।

তিনি ইতিমধ্যে প্রতিবাদ সভাও করেছেন। ন্যায্য হিস্যা আদায়ে তার এই প্রতিবাদ সভায় সৌদকে পাশে না পেলেও থমকে যাননি। একাই লড়াইটা করছেন এ সময়ের জায়ান্ট স্টারের বিমাতাসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে। কারণ লগ্নিকৃত অর্থ সরকারি নয়, নিজস্ব। ইকবালের সঙ্গে সৌদ একাত্ম ঘোষণা করতে পারতেন। না করার পেছনে হয়তো ইকবালের একটি বক্তব্য দায়ী। তিনি গত ২ মে বাচসাসের একটি সেমিনারে সরকারি অনুদান বন্ধ করার দাবি করেছেন। তার এ আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ প্রচার পায়। তা নিশ্চয়ই সৌদের চোখের আড়াল হয়নি।

এখন এ অবস্থায় স্টার সিনেপ্লেক্সের অরাজকতার বিরুদ্ধে দেশীয় সিনেমার প্রযোজকদের মেলবন্ধনে সৌদদের নিশ্চুপ থাকা যেমন শুভ ইঙ্গিত বহন করে না তেমনি; একক কৃতিত্বে এগিয়ে যাওয়া ভবিষ্যতে অনাচারের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ হিসেবেই মানুষ ইকবালদের মনে রাখবে। হয়তো এখান থেকেই স্টারের অরাজকতা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও বেরিয়ে আসবে।

বিডিসংবাদ/আতে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্টার সিনেপ্লেক্সের আচরণে সরব ইকবাল, নিরব সৌদ

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪


আহমেদ তেপান্তর


ঈদ পরবর্তী গত ৩ মে দুটি সিনেমা একযোগে মুক্তি পায়। এর একটি মো. ইকবাল প্রযোজিত ও পরিচালিত ‘ডেডবডি’; অপরটি বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘শ্যামাকাব্য’। মুক্তির প্রথম দিনেই স্টার সিনেপ্লেক্সের বিমাতাসূলভ আচরণে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন সৌদ। তার সঙ্গে কিছু নাট্যাভিনেতাও যুক্ত হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ অবস্থায় দেশীয় সিনেমার প্রযোজকরা প্রতিনিয়ত যারা স্টারের খামখেয়ালীপূর্ণ আচরণের শিকার তারা কিছুটা প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম পান। কারণ এ মুহূর্তে দেশের সিনেমার বড় চেইন স্টার। চলতি বছরই তাদের আরো শাখা ওপেন হতে যাচ্ছে, ফলে দেশের সিনেমা মুক্তিতে স্টারকে জায়ান্টের ভূমিকায় দেখা যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এ কারণে মোশন পিকচার এসোসিয়েশনের সদস্য হয়েও নিজেদের মনগড়া নিয়মে চলছে স্টার। আর এসব নিয়মের বেড়াজালে পড়ে বেকায়দায় পড়েছেন দেশীয় প্রযোজকরা।

স্টারের অসঙ্গতি নিয়ে চাইলেই অভিযোগ করতে পারছেন না তারা। করলেও সরাসরি যথাযথ লোকের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না লগ্নিকারকরা। ফলে স্টার যেভাবে চাইছে সেভাবেই তাদের ইচ্ছে ও সুবিধা মাফিক শো টাইম এবং প্রজেকশন হল দেওয়া হচ্ছে। আর এসবের ব্যত্যয়ের প্রতিবাদমুখর হলেন প্রথম নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ। তবে তিনি শুরুতেই থেমে গেলেন। কেন থেকে গেলেন সেটা জানা না গেলেও, এটা অনুমেয় যে সরকারি অনুদানের সিনেমায় অহেতুক গলাবাজি বা প্রতিবাদী হয়ে আখেরে সম্পর্কের অবনতির ভয়। তিনি শুধু চুপ-ই থাকেন নি, একই সঙ্গে ‘ডেডবডি’ সিনেমার নির্মাতার সঙ্গে কোথাও তাকে একাত্মতা প্রকাশ করতেও দেখা যায়নি। এরমানে ধরে নেওয়া যায় সরকারি অনুদানের সিনেমা বলে দায় কম অথবা সিনেমার মেরিট দুর্বল।

একটা বিষয় পরিলক্ষিত হয় যে, ‘শ্যামাকাব্য’ সকলের অলক্ষেই মুক্তি পেয়েছিল। কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই সিনেমাটি মুক্তি পায়। অনুদানের সিনেমার আদর্শ নীতির ব্যত্যয় ঘটে। এতে অনুদানের সিনেমায় প্রযোজকের অর্থ লগ্নির একটা ব্যাপার থাকে সেটা হয়েছে বলে মনে হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের আদর্শ নীতি মেনে তিনটে সিনেমার নাম উল্লেখ করতেই হবে। এর একটি এস এ হক অলিকের ‘গলুই’, হৃদি হকের ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ এবং মুক্তিপ্রতিক্ষিত কবিরুল রানার ‘জলরঙ’। প্রত্যেকটা সিনেমাতেই সরকারি অনুদানের সমপরিমান অর্থের বেশি খরচের কারণে মুক্তিপ্রাপ্ত দুটো অনুদানের সিনেমার নির্মাণকে আরো পরিশীলিত করেছে। এর বিপরীতে ‘শ্যামাকাব্য’র খরচের হিসাবটাও যেমন চোখে কটকা লাগে তেমনি কমখরচে নির্মাণে খামতি থাকাও অমূলক নয়। আর এটা টের পেয়ে হয়তো নির্মাতা সৌদের স্টারের বিরুদ্ধে সরব কণ্ঠ ভাটা পড়ে। তবে এক্ষেত্রে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে সকল ধরনের অন্যায়-অবিচারের শিকার ‘ডেডবডি’ সিনেমার প্রযোজক-নির্মাতা ইকবাল উচ্চকণ্ঠ।

তিনি ইতিমধ্যে প্রতিবাদ সভাও করেছেন। ন্যায্য হিস্যা আদায়ে তার এই প্রতিবাদ সভায় সৌদকে পাশে না পেলেও থমকে যাননি। একাই লড়াইটা করছেন এ সময়ের জায়ান্ট স্টারের বিমাতাসুলভ আচরণের বিরুদ্ধে। কারণ লগ্নিকৃত অর্থ সরকারি নয়, নিজস্ব। ইকবালের সঙ্গে সৌদ একাত্ম ঘোষণা করতে পারতেন। না করার পেছনে হয়তো ইকবালের একটি বক্তব্য দায়ী। তিনি গত ২ মে বাচসাসের একটি সেমিনারে সরকারি অনুদান বন্ধ করার দাবি করেছেন। তার এ আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ প্রচার পায়। তা নিশ্চয়ই সৌদের চোখের আড়াল হয়নি।

এখন এ অবস্থায় স্টার সিনেপ্লেক্সের অরাজকতার বিরুদ্ধে দেশীয় সিনেমার প্রযোজকদের মেলবন্ধনে সৌদদের নিশ্চুপ থাকা যেমন শুভ ইঙ্গিত বহন করে না তেমনি; একক কৃতিত্বে এগিয়ে যাওয়া ভবিষ্যতে অনাচারের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ হিসেবেই মানুষ ইকবালদের মনে রাখবে। হয়তো এখান থেকেই স্টারের অরাজকতা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও বেরিয়ে আসবে।

বিডিসংবাদ/আতে