ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেশমে তীব্র বিস্ফোরণ শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের কঠিন শর্ত মানল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবে বন্দুক হামলায় ঝরল ২৪ প্রাণ গাজীপুরে অস্থিরতা এড়াতে ২৫ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলা অব্যাহত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মিলবে ২০ বছর ভারতে বিমানের টিকিটের ভাড়ায় আসছে নতুন নিয়ম যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচিত হলে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জাকির হোসেনের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেশমে তীব্র বিস্ফোরণ

  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের দক্ষিণ উপকূলবর্তী কেশম দ্বীপে সোমবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, অল্প সময়ের ব্যবধানে কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দ্বীপটির আকাশসীমায় দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখা গেছে। পাশাপাশি বন্দর লেঙ্গেহ শহর থেকেও সমুদ্রের দিক থেকে আসা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার সময় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই সামরিক তৎপরতা নিয়ে তেহরান বা ওয়াশিংটন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল বলেও মার্কিন সূত্রের দাবি। ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ এই অভিযানকে বড় ধরনের যুদ্ধের অংশ নয় বরং একটি সুনির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হয়েছে—এমন বার্তা এড়াতে ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার বিষয়টি প্রচারের বাইরে রেখেছিল।

অন্য একটি সূত্রে ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোমবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গুলিবর্ষণের জবাবেই যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা হামলা চালায়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এই ঘটনাকে বৃহত্তর পরিসরে কোনো সামরিক সংঘাত শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে না বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক জেনিফার গ্রিফিন।

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই আইআরজিসি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিল। বাহিনীটির ভাষ্যমতে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোয়েন্দা ড্রোন আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। হামলার মূল কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে দুই দেশের বিপরীতমুখী এসব দাবির প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেশমে তীব্র বিস্ফোরণ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের দক্ষিণ উপকূলবর্তী কেশম দ্বীপে সোমবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, অল্প সময়ের ব্যবধানে কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দ্বীপটির আকাশসীমায় দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখা গেছে। পাশাপাশি বন্দর লেঙ্গেহ শহর থেকেও সমুদ্রের দিক থেকে আসা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার সময় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই সামরিক তৎপরতা নিয়ে তেহরান বা ওয়াশিংটন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল বলেও মার্কিন সূত্রের দাবি। ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ এই অভিযানকে বড় ধরনের যুদ্ধের অংশ নয় বরং একটি সুনির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হয়েছে—এমন বার্তা এড়াতে ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার বিষয়টি প্রচারের বাইরে রেখেছিল।

অন্য একটি সূত্রে ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোমবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গুলিবর্ষণের জবাবেই যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা হামলা চালায়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এই ঘটনাকে বৃহত্তর পরিসরে কোনো সামরিক সংঘাত শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে না বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক জেনিফার গ্রিফিন।

এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই আইআরজিসি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিল। বাহিনীটির ভাষ্যমতে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোয়েন্দা ড্রোন আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। হামলার মূল কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে দুই দেশের বিপরীতমুখী এসব দাবির প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।