হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে ফের হামলা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৯:২৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
রাজধানীর হাজারীবাগে অবস্থিত এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ফের দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠানটির গুদামঘরের পেছনে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি লক্ষ্য করায় বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে হাজারীবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। গত শুক্রবার রাতেও এই কুরিয়ার সার্ভিসে হামলার ঘটনায় করা মামলার বাদীকে ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে প্রতিষ্ঠানটিতে দুবার হামলার শিকার হয়েছে এবং একবার আগুন দেওয়ার চেষ্টা হলো। আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। বলা হয়, ‘সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ দিনের মধ্যে দুবার হামলা ও একবার আগুন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
আগুনের চেষ্টার ঘটনার দুই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুরিয়ার সার্ভিসের এক কর্মী কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় হামলার শিকার হন। পথে ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মারধর করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা একটি স্মার্টফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, সন্ত্রাসীদের শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মূলত দুই বছর আগে সিকদার গ্রুপের সাথে চুক্তিতে জমি ভাড়া নিলেও, এখন ভাড়া শিকদার গ্রুপকে না দিয়ে ইমনের কাছে জমা দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। কাজ শেষে বাসায় যাওয়ার পথে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মীকেও মারধরের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, আসামিরা টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যেই মূলত প্রতিষ্ঠানটিতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাচ্ছে এবং হামলা ও ভাঙচুর ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার অভিযানও চলছে।
তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে ওসি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া সিসিটিভি ক্যামেরার চারটি ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার রাতে রায়েরবাজারের একটি মাঠের কাছ থেকে এই যন্ত্রগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























