ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হুতি হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে করপোরেট অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার: শীর্ষে ইলন মাস্ক উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: উখিয়া থানার ওসিকে আদালতে তলব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও জাপানের নতুন অংশীদারত্ব জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ফিরলেন আটকে থাকা ৪০ ওমরাহযাত্রী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একমত সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান-ইরান মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফেনীতে প্রবাসীর কলোনীর ভাড়া তুলে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

হুতি হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল

  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের আকাশপথে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে নির্ধারিত মোট ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজার ৭১টি বাতিল করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে প্রায় ৮৬ শতাংশ ফ্লাইট চলাচল করতে পারেনি।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বেশ কিছুদিন স্থবির ছিল। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর এলাকায় ভয়াবহ এক হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারান, যা গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই ঘটনার পর যাত্রী নিরাপত্তার খাতিরে অধিকাংশ নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

জেদ্দা বিমানবন্দরের পর এটি সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি অচল হয়ে পড়ায় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও পরিচালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর গত ২৫ অক্টোবর, রোববার থেকে সীমিত পরিসরে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে বিমান চলাচল কত দ্রুত পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান থাকলে ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন অথবা পুনরায় ফ্লাইট বাতিলের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, চলতি অক্টোবর মাসে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিভিন্ন তেল স্থাপনার ওপর হামলা জোরদার করেছে। এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার ফলে সৌদি আরবের পরিবহন ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

হুতি হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল

আপডেট সময় : ১২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের আকাশপথে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে নির্ধারিত মোট ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজার ৭১টি বাতিল করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে প্রায় ৮৬ শতাংশ ফ্লাইট চলাচল করতে পারেনি।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বেশ কিছুদিন স্থবির ছিল। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর এলাকায় ভয়াবহ এক হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারান, যা গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই ঘটনার পর যাত্রী নিরাপত্তার খাতিরে অধিকাংশ নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

জেদ্দা বিমানবন্দরের পর এটি সৌদি আরবের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি অচল হয়ে পড়ায় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও পরিচালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর গত ২৫ অক্টোবর, রোববার থেকে সীমিত পরিসরে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে বিমান চলাচল কত দ্রুত পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান থাকলে ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন অথবা পুনরায় ফ্লাইট বাতিলের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, চলতি অক্টোবর মাসে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিভিন্ন তেল স্থাপনার ওপর হামলা জোরদার করেছে। এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার ফলে সৌদি আরবের পরিবহন ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ যাত্রীরা।