নরসিংদীতে ঐতিহ্যবাহী আতা ফল বিলুপ্তির পথে!
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭
- / 1317
জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদীঃ নরসিংদীতে কৃষি বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাবে জেলার হাজার হাজার কৃষক ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে। জেলার ৬টি উপজেলার হাজার হাজার কৃষি পরিবারের বাড়িতে একসময় ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদন করতো। দিন বদলের পালাবদলে আধুনিক যুগের আবহাওয়াসহ কৃষি বিভাগীয় কমকর্তা-কর্মচারীদের চরম গাফিলতির ফলে কৃষকরা আজ ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
তৎকালীন নরসিংদী জেলার পাহাড়িয়াঞ্চল শিবপুর, রায়পুরা, বেলাবো, পলাশ, মনোহরদী ও সদর উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের বাড়ির নারী-পুরুষরা ব্যাপক আগ্রহের সাথে বাড়ির আঙ্গিনাসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত জমিতে ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল চাষাবাদ করে ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করে মোটা অংকের মুনাফা করত। তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল বাজারজাত করে অর্জিত মুনাফার অর্থ দিয়ে পরিবারের ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজের লেখাপড়ার ব্যয়সহ পারিবারিক জীবিকা নির্বাহ করা হত।
নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষীরা ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদন বিলুপ্তির পথে জানিয়ে বলেন, বিগত ২০/৩০ বছর পূর্বে আমরা বসত বাড়িসহ পরিত্যাক্ত ভূমিতে ব্যাপক হারে এ ফলের চাষাবাদ করতাম। অন্যান্য কৃষি ফসলাদী উৎপাদনের পাশাপাশি অতি আগ্রহের সঙ্গে আমরা পরিবার দম্পতীরা প্রায় অধিকাংশ বাড়িতেই আতা ফলের চাষাবাদ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে তা বাজারজাতপূর্বক মোটা অংকের মুনাফা আয় করতাম। যা দিয়ে আমাদের পরিবারে স্কুল ও কলেজগামী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যায়বহনসহ জীবিকা নির্বাহ করতাম। কৃষি বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীগনের উৎসাহ-উদ্দীপনার অভাবসহ দিন বদলের পালা বদলের যুগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ফলে আজ ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাসহ কৃষি বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে নরসিংদীর চাষিরা পুনরায় ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে কৃষকরা জানায়। নরসিংদী জেলার কৃষক-কৃষানীদের উৎপাদিত হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী আতা ফল একসময় বাণিজ্যিক ভাবেও চাষাবাদ হতো। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই ফল আবাদে জেলার কৃষক-কৃষানীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
নরসিংদীর চাষীরা বিগত সময়ে ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল গ্রামের বসতবাড়ির আঙিনায়, খোলা জায়গায় আতা ফলের উৎপাদন করা হতো। আতা ফলের ব্যাপক উৎপাদনে আমরা কৃষক-কৃষানীরা বাগানের ফলন দেখে যেমন খুশি হতাম, তেমনি প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ তা দেখে মুগ্ধ হতো। নরসিংদীতে ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আতা ফল উৎপাদন তৎকালীন সময়ে প্রায় বিনা ব্যায়ে ব্যাপক উৎপাদন হতো এবং আমরা তা বাজারজাত করে মোটা অংকের মুনাফা পেতাম। বর্তমানে নরসিংদীতে আতা ফলের উৎপাদন নেই বললেই চলে। ঐতিহ্যবাহী আতা ফল চাষাবাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে জেলার সচেতন মহল সরকার ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছে।


























