ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগের সরকারের নীতি অনুসরণ করছে মিয়ানমার : ইয়াংহি লি

  • আপডেট সময় : ০৫:০০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭
  • / 238
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের বর্তমান সরকার আগের জান্তা সরকারের নীতি অনুসরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি।

মিয়ানমারে ১২ দিনের সফর শেষে আজ জেনেভা থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু ও বাড়িঘর থেকে বিতারণ। এসব মানবিক সংকট এখনো চলছে।

ইয়াংহি লি বলেন, সফরকালে আমার নিজের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোতে যেতে পারছে না। আমার সাথে দেখা করতে আসা লোকজন হয়রানির শিকার হয়েছে। আমার সফরের ওপর মিয়ানমার সরকার পূর্বশর্ত আরোপ করতে চেয়েছে- যা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, আগের সরকারের ব্যবহৃত কৌশল এখনো প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা খুবই দু:খজনক। আমি বুঝতে পারছি মিয়ানমারের নতুন সরকার জাতিসঙ্ঘের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে। আমাদের বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রাতারাতি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটবে- এমন প্রত্যাশা যেন না করি এবং এজন্য আরো সময় ও সুযোগ প্রয়োজন।

লি বলেন, একইভাবে মিয়ানমারও প্রত্যাশা করতে পারে না তাদের ওপর কঠোর নজরদারী ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি রাতারাতি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রকৃত অগ্রগতি না হলে এটা সম্ভবও না।

জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার বলেন, গত জানুয়ারিতে আমার সফরের পর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পরিস্থিতিতে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের মাধ্যমে এসব রোহিঙ্গাদের অনেককেই ঘরছাড়া করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসছে। নাগরিক হিসাবে যাচাই-বাছায়ের জন্য আবেদন করাতে অনেক রোহিঙ্গাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। আবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতার অভিযোগে অনেক গ্রাম্য প্রশাসন ও অন্যান্য মুসলিমরা হামলার শিকার হয়েছে। উভয়পক্ষের সংঘাতের মধ্যে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে কারাবন্দিদের প্রতি আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে কেবলমাত্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন নয়, মুসলিম সম্প্রদায়কেও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেয়া প্রয়োজন। তবে এজন্য সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত, বৈষম্য দূর ও অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, নিজ ঘর থেকে পালিয়ে এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। রাখাইন ছাড়াও কাচিন ও শান রাজ্যের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে।

মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার গত ১০ থেকে ২১ জুলাই ইয়াঙ্গুন, নেপিডো এবং রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যের কয়েকটি এলাকা সফর করেছেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভিকটিমদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তার তৃতীয় মিয়ানমার সফর। ২০১৪ সালে মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার নিযুক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনি দেশটিতে ছয়টি তথ্যানুসন্ধান মিশন পরিচালনা করেছেন।

আগামী অক্টোবরে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসঙ্ঘে সাধারণ অধিবেশনে ইয়াংহি লি মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উত্থাপন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগের সরকারের নীতি অনুসরণ করছে মিয়ানমার : ইয়াংহি লি

আপডেট সময় : ০৫:০০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের বর্তমান সরকার আগের জান্তা সরকারের নীতি অনুসরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি।

মিয়ানমারে ১২ দিনের সফর শেষে আজ জেনেভা থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু ও বাড়িঘর থেকে বিতারণ। এসব মানবিক সংকট এখনো চলছে।

ইয়াংহি লি বলেন, সফরকালে আমার নিজের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোতে যেতে পারছে না। আমার সাথে দেখা করতে আসা লোকজন হয়রানির শিকার হয়েছে। আমার সফরের ওপর মিয়ানমার সরকার পূর্বশর্ত আরোপ করতে চেয়েছে- যা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, আগের সরকারের ব্যবহৃত কৌশল এখনো প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা খুবই দু:খজনক। আমি বুঝতে পারছি মিয়ানমারের নতুন সরকার জাতিসঙ্ঘের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে। আমাদের বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রাতারাতি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটবে- এমন প্রত্যাশা যেন না করি এবং এজন্য আরো সময় ও সুযোগ প্রয়োজন।

লি বলেন, একইভাবে মিয়ানমারও প্রত্যাশা করতে পারে না তাদের ওপর কঠোর নজরদারী ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি রাতারাতি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রকৃত অগ্রগতি না হলে এটা সম্ভবও না।

জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার বলেন, গত জানুয়ারিতে আমার সফরের পর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পরিস্থিতিতে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘনের মাধ্যমে এসব রোহিঙ্গাদের অনেককেই ঘরছাড়া করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসছে। নাগরিক হিসাবে যাচাই-বাছায়ের জন্য আবেদন করাতে অনেক রোহিঙ্গাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। আবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতার অভিযোগে অনেক গ্রাম্য প্রশাসন ও অন্যান্য মুসলিমরা হামলার শিকার হয়েছে। উভয়পক্ষের সংঘাতের মধ্যে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে কারাবন্দিদের প্রতি আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে কেবলমাত্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন নয়, মুসলিম সম্প্রদায়কেও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেয়া প্রয়োজন। তবে এজন্য সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত, বৈষম্য দূর ও অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, নিজ ঘর থেকে পালিয়ে এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। রাখাইন ছাড়াও কাচিন ও শান রাজ্যের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে।

মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার গত ১০ থেকে ২১ জুলাই ইয়াঙ্গুন, নেপিডো এবং রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যের কয়েকটি এলাকা সফর করেছেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভিকটিমদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তার তৃতীয় মিয়ানমার সফর। ২০১৪ সালে মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার নিযুক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনি দেশটিতে ছয়টি তথ্যানুসন্ধান মিশন পরিচালনা করেছেন।

আগামী অক্টোবরে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসঙ্ঘে সাধারণ অধিবেশনে ইয়াংহি লি মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উত্থাপন করবেন।