তথ্য ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনী প্রকল্পে ডিআইআইটির সাফল্যে
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮
- / 467
বিডিসংবাদ প্রতিবেদকঃ বর্তমানে সারা বিশ্বে দ্রুত অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে ‘তথ্য ও প্রযুক্তি’ বা আইসিটি ।
একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে এই পরিবর্তন অবিস্বরনীয় বলা যায়। সেই ফলপ্রসূতে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে ‘আইসিটি’ একটি অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ও দ্রুত উন্নয়নশীল খাত।
সেই লক্ষ্যে তরুণ তরুণীদের এই মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এই সেক্টরের উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরীতে এবং বিশ্বের নানা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নানাবিধ উদ্যেগ নিচ্ছে।
তেমনি সম্প্রতি ড্যফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আশুলিয়া স্থায়ী ক্যাম্পাসে গত ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব সবুর খানের নেতৃত্বে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী দেশের প্রথম ও বৃহত্তম ‘ড্যাফোডিল আইসিটি কার্নিভাল ২০১৮’।
কার্নিভাল উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার এবং সমাপনীতে সেরা প্রকল্প ও পারফর্মারদের মোট ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এই কার্নিভালে সারা বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করার পাশাপাশি ড্যাফোডিল পরিবারের অঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অব আইটির শিক্ষার্থীরাও তাদের উদ্ভাবনী আইটি প্রকল্পগুলো প্রদর্শন করে। শুধুমাত্র অংশগ্রহণে করার মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্প প্রদর্শনে সেরা নির্বাচিত হওয়ায় দুটি দল বিজয়ী হয়ে সেরা ১ থেকে ১০ এর মধ্যে দুটি স্থান অর্জন করে।
প্রকল্পে অংশগ্রনকারী দল দুটি হচ্ছে- ডিআইআইটির ১৬তম ব্যাচ সিএসই ডিপার্টমেন্টের দুই তরুণ উদ্ভাবক তন্ময় খান অভি ও ইয়াসির আরাফাত রাতুল এবং আরেকটি ১৫তম ব্যাচ একই ডিপার্টমেন্টের মো. মাহমুদুল হক তপু ও এস.এ.শাকিল।

১৬তম ব্যাচের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের উদ্ভাবনী প্রকল্পে ছিল স্বাস্থ্য বিষয়ক মোবাইল ভিত্তিক এপ্স ডক্টর ফাইন্ডার। যেটি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে এবং বিজয়ী হিসেবে পায় ১ লক্ষ টাকা, যা প্রদান করা হয় একি প্রকল্পের অংশগ্রহনকারী অনান্য দলের মধ্যে যৌথভাবে।
ডক্টর ফাইন্ডারের উদ্ভাবক ও বিজয়ী অভি ও রাতুল বলেন– “ডক্টর ফাইন্ডার মোবাইল এপ্লিকেশনটি মূলত ছিল সারা বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে স্বনামধন্য চিকিৎসকদের তালিকা খুঁজে বের করা এবং ডাক্তারদের এপোয়েন্টমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা আছে খুব সহজে।”

অন্যদিকে ১৫তম ব্যাচের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ছিল আইওটি সেক্টরের ডিআইআইটি প্লাস। তারা ১০ম স্থানে ছিল এবং অর্জন করে ১০ হাজার টাকা।
ডিআইআইটি প্লাসের উদ্ভাবক তপু ও রাতুল জানান– “ডিআইআইটি প্লাস মূলত মাইক্রো কম্পিউটার বেস একটি ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সিস্টেম। সহজ ভাষায় বলা যায়- এটি একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটার সিস্টেম যার মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান, এপ্স বা ওয়েবসাইট হোস্টিং এবং কম খরচে কম্পিউটার ল্যাব তৈরিসহ যাবতীয় সকল সুবিধা পাওয়া যাবে।”
এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা বলেন- “সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে এই প্রজেক্টটি তারা আরো উন্নত কার্যক্ষমতায় নিয়ে যাবে। এ জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন।

এর আগে ডিআইআইটিতে আইটি প্রকল্প নিয়ে গত ৩ থেকে ৫ ফ্রেব্রুয়ারী পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী ডিআইআইটি আইটি ফেস্ট ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে এই তরুণ দুই দল তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে প্রদর্শনে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।
ডিআইআইটির এই সাফল্যে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো . শাখাওয়াত হোসেন বলেন– “ড্যাফোডিল কার্নিভালে আমার ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অব আইটির শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র অংশগ্রহণে নয় এর সাথে বিজয় ছিনিয়ে এনে এক বিরত্বের পরিচয় দিয়েছে এর জন্য শুধু আমি নই, ডিআইআটটির সকলেই গর্বিত”।
ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান্টির প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা যে কোন প্রকল্পে এমন আরো অনেক গৌরবউজ্জ্বল সম্মান নিয়ে আনবে বলে সকলেই আশাবাদী।
বিডিসংবাদ/সামি




















