নড়াইলে ফতোয়া বাজদের আক্রমণের শিকার লাবনী আক্তার
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
- / 305
নড়াইল সংবাদদাতাঃ
নড়াইলে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থায় স্বাস্হ্য কর্মী হিসাবে চাকুরী করেন এক সন্তান এর জননী লাবনী আক্তার লুবনা । তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতন সম্পর্কে পরামর্শ দেন। লাবনী আক্তার মহিলাদের একের বেশি সন্তান না নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন সম্পর্কে অবগত করেন। এককথায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সচেতনতা করেন ।
লাবনী আক্তারের বাড়ি নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে এবং তিনি পার্শ্ববর্তী কালিয়া থানার মৌলভী এবং ইসলামী শাসনতন্ত্রের নেতা আবদুল্লাহ শেখের স্ত্রী । এর চার পাশে মৌলবাদীদের বসবাস । লাবনী আক্তারকে ২-৩ মাস আগে এধরনের প্রচারনা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য জোরালো ভাবে নিষেধ করেন।
ঘটনার দিন, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ লাবনীর সহকর্মী রমী ,তীথি ও তার শিশু পুত্র ওয়ালিদ কে সাথে নিয়ে নড়াইল সদর থেকে ২.৫ কি.মি দূর্গাপুর গ্রামের একটি প্রোগ্রাম শেষ করে আটো নিয়া অফিসে ফিরছিল , ঘড়িতে তখন ৩.১৫ ঘটিকা। বালুর মাঠের সামনে আসতেই লাবনী দেখতে পেল বড় বড় পাঞ্জাবী ও টুপি পরা একদল ১৮ / ২০ বৎসরের যুবক আসছে আর একটু সামনে এগোলেই কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ তাদের মধ্যে থেকে কেউ একজন চিৎকার দিয়ে বলে ওরে ধর ধর এমনি যুবকের দল তাদের অটো রিক্সাটিকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার মাঝখানে উল্টে ফেলে। লাবনীর সহকর্মী রমী,তিথি ও অটো ড্রাইভার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে তাহার ছোট্টশিশু ও লাবনী ছিটকে মাটিতে পড়ে যায় । এরপর তারা রমী,তীথি ও অটো রিক্সা ড্রাইভারকে গাড়ীর নীচ থেকে টেনে বের করে হকিষ্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ী পেটাতে থাকে । কেউ কিলঘুষি কেউ বা লাথি দিতে থাকে ,তাদের প্রত্যেকের হাতে হকিষ্টিক , লাঠি আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো লম্বাচাকু , রামদা। এ সময় তারা তাকবীর ( বিশেষ স্লোগান ) দিতে থাকে। এদের মধ্যে থেকে আবার কাউকে বলতে শোনা যায় ‘এই কোপ দিসনা’। একপর্যায়ে তাদের কেউ একজন চ্যাপটা কাঠের টুকরা দিয়ে লাবনীর কান বরাবর আঘাত করলে সে লুটিয়ে পড়ে এবং তার কানের তালা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে । ঘটনায় তার ছেলে চিৎকার করে মায়ের কাছে ছুটে এলে তাকে ও সন্ত্রাসীরা ছাড় দেয়নি । সে ডানহাতে কনুতে আঘাত পেয়ে ভয়ে শুধু চিৎকার করতে থাকে। প্রায় ২০ মিনিট কাল ব্যাপী তান্ডব চালিয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং চলে যাবার সময় এই বলে শাষায় যে আর কোন দিন এনজিও চালাতে এলে বিসমিল্লাহ বলে জবাই করে টুকরা টুকরা করে ফেলবে।
জানা যায় হামলায় সময় নিকটে দন্ডয়ামান অনেক মানুষের মধ্যে থেকে কেউ একজন তাদেরকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে না এসে তারা তাদের মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তারা চলে যাবার পর ২ জন রিক্সা ওয়ালা এবং কায়েকজন নারীপথচারী তাদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠায় । হাসপাতলে ৯ দিন চিকিৎসা শেষে ছাড় পেয়ে বাড়ীতে ফিরে এলে মৌলবাদীদের প্ররোচনায় শশুরের নির্দেশে লাবনীর স্বামী তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
উক্ত জনগোষ্টীর বর্তমানে একটাই উদ্দেশ্যে হয় লাবনীকে হত্যা করবে না হয় মামলা তুলে নিতে বাধ্য করবে। এমন অবস্থায় লাবনী জীবন নাশের ভয়ে প্রচন্ড আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে এক ছেলেকে নিয়ে অতী কষ্টে দিন – রাত পার করতেছে। কোথায় যাবে কি করবে ? লাবনী আক্তার এখন দিশেহারা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস




















