ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের

‘সিনেমার অংশ হলে জাতীয় সঙ্গীতে দাঁড়াতে হবে না’

  • আপডেট সময় : ০১:৪০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 252
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিনেমা হলে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কোনও সিনেমার অঙ্গ হিসেবে যদি জাতীয় সঙ্গীত বাজে, তা হলে উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজনও নেই। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এ কথাও বলল।

জাতীয় সঙ্গীতকে কী ভাবে সম্মান জানানো উচিত এবং কোন কোন আচরণকে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা হিসেবে ধরা হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি দেশজোড়া বিতর্ক হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রেক্ষিতেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। দেশের সব প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে হবে এবং পর্দায় সে সময় জাতীয় পতাকা দেখাতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে বলেও বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি অমিতাভ রায়ের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল। সেই থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

সিনেমার অঙ্গ হিসেবে যদি জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়, তা হলে উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। এমনও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সিনেমা দেখতে গিয়ে কেন দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে অনেকে এই রায়ের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা নিয়ে গোলমাল শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন উঠে না
দাঁড়ানোয় হেনস্থার শিকার হওয়ার খবর আসতে শুরু করে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ থেকে। কোথাও প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষই দর্শককে বাইরে বার করে দেন, কোথাও অন্য দর্শকদের হাতে হেনস্থার শিকার হতে হয় উঠে না দাঁড়ানো দর্শককে, কোথাও আবার গ্রেফতারও হতে হয়। জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার জেরেও অনেককে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়।

জাতীয় সঙ্গীতকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা সংবিধানে লেখা রয়েছে। কিছু আচরণ বিধিও সেখানে উল্লিখিত রয়েছে। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত চললে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক এবং না দাঁড়ালে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে, এমন কোনও কথা সংবিধানে বলা নেই। তাই প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার রায়কে কেন্দ্র করে বিস্তর জটিলতার সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার যে রায় দিল, তাতে সেই জটিলতা কিছুটা কমতে পারে। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত প্রত্যেককে তা গাইতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে। সিনেমার অঙ্গ হিসেবে যদি জাতীয় সঙ্গীত শোনানো হয়, তা হলে উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই বলেও সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের জেরে জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে যে কঠোর বাধ্যবাধকতার ধারণা জনমানসে চারিয়ে গিয়েছিল, এ দিনের রায়ের ফলে সেই ধারণা কিছুটা শিথিল হতে পারে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘সিনেমার অংশ হলে জাতীয় সঙ্গীতে দাঁড়াতে হবে না’

আপডেট সময় : ০১:৪০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

সিনেমা হলে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কোনও সিনেমার অঙ্গ হিসেবে যদি জাতীয় সঙ্গীত বাজে, তা হলে উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজনও নেই। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এ কথাও বলল।

জাতীয় সঙ্গীতকে কী ভাবে সম্মান জানানো উচিত এবং কোন কোন আচরণকে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা হিসেবে ধরা হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি দেশজোড়া বিতর্ক হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রেক্ষিতেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। দেশের সব প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে হবে এবং পর্দায় সে সময় জাতীয় পতাকা দেখাতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে বলেও বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি অমিতাভ রায়ের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল। সেই থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

সিনেমার অঙ্গ হিসেবে যদি জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়, তা হলে উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। এমনও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সিনেমা দেখতে গিয়ে কেন দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে অনেকে এই রায়ের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা নিয়ে গোলমাল শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন উঠে না
দাঁড়ানোয় হেনস্থার শিকার হওয়ার খবর আসতে শুরু করে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ থেকে। কোথাও প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষই দর্শককে বাইরে বার করে দেন, কোথাও অন্য দর্শকদের হাতে হেনস্থার শিকার হতে হয় উঠে না দাঁড়ানো দর্শককে, কোথাও আবার গ্রেফতারও হতে হয়। জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার জেরেও অনেককে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়।

জাতীয় সঙ্গীতকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা সংবিধানে লেখা রয়েছে। কিছু আচরণ বিধিও সেখানে উল্লিখিত রয়েছে। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত চললে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক এবং না দাঁড়ালে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে, এমন কোনও কথা সংবিধানে বলা নেই। তাই প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার রায়কে কেন্দ্র করে বিস্তর জটিলতার সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার যে রায় দিল, তাতে সেই জটিলতা কিছুটা কমতে পারে। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত প্রত্যেককে তা গাইতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে। সিনেমার অঙ্গ হিসেবে যদি জাতীয় সঙ্গীত শোনানো হয়, তা হলে উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই বলেও সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের জেরে জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে যে কঠোর বাধ্যবাধকতার ধারণা জনমানসে চারিয়ে গিয়েছিল, এ দিনের রায়ের ফলে সেই ধারণা কিছুটা শিথিল হতে পারে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন।