ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের দুই জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি

পক্ষাঘাতগ্রস্থ চেতনায় বন্দি সাংবাদিকরা

  • আপডেট সময় : ০১:২৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩
  • / 501
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মীর আহাম্মদ মীরু

কাগজে-কলমে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও গত এক যুগে অমানিশার ঘোরে আটকে আছে এই পেশাটি। এক সময় পেশাটির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা থাকলেও এখন সেটা তলানিতে ঠেকেছে। ক্ষমতার গর্ভে সত্যকে হাতরে ফিরছে। অথচ বৈষয়িক ভাবনার অনেক ঊর্ধ্বে ছিল পেশাটির সম্মান। মর্যাদা। যা আজ ক্ষমতাসীনদের পদলেহনে নিমজ্জিত। বিবেক আজ পক্ষাঘাতগ্রস্থ। পেশাটির প্রতি সাধারণের সম্মান অবজ্ঞার প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু কেন এমনটা হলো? বন্ধুগণ, এ অবস্থার সৃষ্টি এক বা দুই দিনে হয়নি। লোলুপ রাজনৈতিক শক্তির আঁধারে কুলষিত হওয়ার আগ পর্যন্ত চোখে চোখ রেখে যারা কলম চালিয়েছে, তারা আজ চক্ষুগরমে অস্তিত্ব সংকটের এক কঠিন পরীক্ষায়।

বন্ধুগণ, আজকের এই অবস্থা ক্ষমতাসীনদের পদলেহনকারী কতিপয় সাংবাদিক নেতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি। আপনারা অবগত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন।

এ নিয়ে উচ্চবাচ্যকারী সাংবাদিক নেতা সরকারের উপদেষ্টা হলেন আর মামলাও যেন গতি হারালো। এভাবে সাংবাদিকরাও পথভ্রষ্ট নেতার অনুগামী হতে শুরু করলেন। ফলে সরকারের একচোখা নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলেও সাংবাদিকের কলম আর চলে না। বিবেকের দরজায় অর্থের থলি আর সুযোগ-সুবিধায় ব্যস্ত কতিপয় সাংবাদিক ও মালিকপক্ষ। বন্ধুগণ আপনারা অবগত শাসক দলের প্রধানকে প্রশ্নবাণে জর্জড়িত করার বদলে পাল্লা দিয়ে চলে পদলেহনের প্রতিযোগিতা। বদলৌতে মেলে গাড়ি-ফ্ল্যাট-বিদেশ যাত্রার সুযোগ। নৈতিকতার কলম দেখালে চলে ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কঠিন মামলায় জেল হাজত, হায়রে আমরা মন মাতানো দেশ। আইনের কঠিন কুটচালে সকল কলমকে পরাভূত করে খোশমেজাজে সরকার যা খুশি করে যাচ্ছে। বলার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই। অথচ সাংবাদিকের বিবেক সবেচেয় বড় আদালত।

আজ সেটা প্রতিমুহূর্তে আঘাতে জর্জড়িত। বন্ধুগণ- সরকারের বাহিনীর কারণে গণমাধ্যম আজ নিরপেক্ষতার অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল গণমাধ্যম আজ সরকারের দক্ষিণহস্থ। মালিকপক্ষ নিজেদের গৌরবকে শানিত করতে সরকারের পদলেহনেই অধিক মনোযোগী। অধীনেস্থরা ভুগছেন হীনমণ্যে। রক্তের স্রোতধারা হৃদয়ে প্রবাহিত, চোখে বিবেকের বিস্ফারণ, চোয়ালে শোষণের চিহ্নে প্রতবাদী, ঠোঁটে সত্যবাণী পৌঁছানোর তাগিদ। কিন্তু কঠিন আইন আর সরকারের আজ্ঞাবহ বাহিনীর রক্তচক্ষু উপক্ষা করে সাধ্য কার? এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। যা আজ উপেক্ষিত এক সত্য। মিথ্যার স্রোতে সত্যর কালি ম্রিয়মান।

এই স্বাধীনতা আজ লুন্ঠিত ফ্যাসিবাদের শাসনে। জনগণ রক্ষশূণ্য। অবস্থার পরিবর্তনে গণামধ্যম আর জনতার মিলিত শক্তির বিকল্প নেই।

মীর আহাম্মদ মীরু (সম্পাদক,বিডিসংবাদ)

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

পক্ষাঘাতগ্রস্থ চেতনায় বন্দি সাংবাদিকরা

আপডেট সময় : ০১:২৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

মীর আহাম্মদ মীরু

কাগজে-কলমে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও গত এক যুগে অমানিশার ঘোরে আটকে আছে এই পেশাটি। এক সময় পেশাটির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা থাকলেও এখন সেটা তলানিতে ঠেকেছে। ক্ষমতার গর্ভে সত্যকে হাতরে ফিরছে। অথচ বৈষয়িক ভাবনার অনেক ঊর্ধ্বে ছিল পেশাটির সম্মান। মর্যাদা। যা আজ ক্ষমতাসীনদের পদলেহনে নিমজ্জিত। বিবেক আজ পক্ষাঘাতগ্রস্থ। পেশাটির প্রতি সাধারণের সম্মান অবজ্ঞার প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু কেন এমনটা হলো? বন্ধুগণ, এ অবস্থার সৃষ্টি এক বা দুই দিনে হয়নি। লোলুপ রাজনৈতিক শক্তির আঁধারে কুলষিত হওয়ার আগ পর্যন্ত চোখে চোখ রেখে যারা কলম চালিয়েছে, তারা আজ চক্ষুগরমে অস্তিত্ব সংকটের এক কঠিন পরীক্ষায়।

বন্ধুগণ, আজকের এই অবস্থা ক্ষমতাসীনদের পদলেহনকারী কতিপয় সাংবাদিক নেতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি। আপনারা অবগত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন।

এ নিয়ে উচ্চবাচ্যকারী সাংবাদিক নেতা সরকারের উপদেষ্টা হলেন আর মামলাও যেন গতি হারালো। এভাবে সাংবাদিকরাও পথভ্রষ্ট নেতার অনুগামী হতে শুরু করলেন। ফলে সরকারের একচোখা নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলেও সাংবাদিকের কলম আর চলে না। বিবেকের দরজায় অর্থের থলি আর সুযোগ-সুবিধায় ব্যস্ত কতিপয় সাংবাদিক ও মালিকপক্ষ। বন্ধুগণ আপনারা অবগত শাসক দলের প্রধানকে প্রশ্নবাণে জর্জড়িত করার বদলে পাল্লা দিয়ে চলে পদলেহনের প্রতিযোগিতা। বদলৌতে মেলে গাড়ি-ফ্ল্যাট-বিদেশ যাত্রার সুযোগ। নৈতিকতার কলম দেখালে চলে ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কঠিন মামলায় জেল হাজত, হায়রে আমরা মন মাতানো দেশ। আইনের কঠিন কুটচালে সকল কলমকে পরাভূত করে খোশমেজাজে সরকার যা খুশি করে যাচ্ছে। বলার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই। অথচ সাংবাদিকের বিবেক সবেচেয় বড় আদালত।

আজ সেটা প্রতিমুহূর্তে আঘাতে জর্জড়িত। বন্ধুগণ- সরকারের বাহিনীর কারণে গণমাধ্যম আজ নিরপেক্ষতার অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল গণমাধ্যম আজ সরকারের দক্ষিণহস্থ। মালিকপক্ষ নিজেদের গৌরবকে শানিত করতে সরকারের পদলেহনেই অধিক মনোযোগী। অধীনেস্থরা ভুগছেন হীনমণ্যে। রক্তের স্রোতধারা হৃদয়ে প্রবাহিত, চোখে বিবেকের বিস্ফারণ, চোয়ালে শোষণের চিহ্নে প্রতবাদী, ঠোঁটে সত্যবাণী পৌঁছানোর তাগিদ। কিন্তু কঠিন আইন আর সরকারের আজ্ঞাবহ বাহিনীর রক্তচক্ষু উপক্ষা করে সাধ্য কার? এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। যা আজ উপেক্ষিত এক সত্য। মিথ্যার স্রোতে সত্যর কালি ম্রিয়মান।

এই স্বাধীনতা আজ লুন্ঠিত ফ্যাসিবাদের শাসনে। জনগণ রক্ষশূণ্য। অবস্থার পরিবর্তনে গণামধ্যম আর জনতার মিলিত শক্তির বিকল্প নেই।

মীর আহাম্মদ মীরু (সম্পাদক,বিডিসংবাদ)

বিডিসংবাদ/এএইচএস