ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও সুষ্ঠু তদন্তে নিরপেক্ষ প্যানেল তৈরির পথে বিসিবি সাহিত্যচর্চা ও ইতিহাস সংরক্ষণে ৮ গ্রন্থ প্রকাশ করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাকসু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে জেল মৃত্যুর ঘটনা দিবসের প্রদর্শনী স্থগিত খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন: ১১ প্লাটুন বিজিবি ও ২৫ ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন মিরসরাইয়ে এলজি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার যুবদল নেতা এসআরবির মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ, শিল্পাঞ্চল পুলিশে ইসরাইল হাওলাদার পাবনায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুতে স্বামী গ্রেপ্তার সাংবাদিক হত্যার ৮৬ শতাংশের বিচার হয়নি: ইউনেস্কো সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়াচক্রের হোতা সালাউদ্দিন আটক

বৈষম্য কমিয়ে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরিসহ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে : ড. খলীকুজ্জমান

  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
  • / 122
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরিসহ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস আয়োজিত মহান মে দিবসের স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিলস ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঞাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান। বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং পেশাজীবী সংগঠনসমুহের নেতৃবৃন্দ স্মারক বক্তৃতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ আরো বলেন, বিগত একযুগে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে এর সামান্যই যে এদেশের সাধারণ শ্রমিক পেয়েছেন, তা তাদের আয়-বৈষম্য বৃদ্ধিই অনেকাংশে বলে দেয়। তিনি মন্তব্য করেন, মূল্যস্ফীতির উঁচু মাত্রার কারণে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে স্বল্প আয়ের মানুষের উপর চাপ অনেক বেড়েছে।
সুতরাং, বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের ঘোষিত যে নীতি রয়েছে সেটি বাস্তবায়নের দিকে নজর দেয়া জরুরি। শিল্পের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত মজুরি পরিবারের সকলের শোভন জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত কিনা এ প্রশ্ন রেখে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তৈরী পোশাক খাতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়, বৃদ্ধির অনুপাতে যা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পারিবারিক ভাবে শোভন জীবন-ধারন বিবেচনায় যে অংক বাড়ানো হয়েছে তা অপ্রতুল। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭০ টাকা করা হলেও এর ভিত্তি এত স্বল্প যে এই বৃদ্ধি প্রকৃত অর্থে তেমন কিছুই নয়।
তিনি বলেন, ভারতে শিল্প ও সামাজিক সুরক্ষা আইন ও বিধিমালার আওতায় চা শ্রমিকরাও সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। সুতরাং, বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের জীবনমান শোভন পর্যায়ে উন্নয়নের দাবি রাখে।
ড. খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, যে ৮৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসমূহে তাদের মধ্যে শ্রমিকদের ৮৫ শতাংশ না হলেও ব্যাপক সংখ্যক মানুষ শ্রমিক। এদের বেলায় শ্রমআইন, বিধিমালা, নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি, আর্থিক সুবিধা, ছুটির ধারণা, আইনি অধিকার ও বিধি-বিধান ছুঁয়ে যায় না। কুটির শিল্প ও মাইক্রো উদ্যোগ ও ব্যবসার দিকেও নজর দেয়ার প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে খলীকুজ্জমান বলেন, এক্ষেত্রে মালিকদেরকে অতি প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও শ্রমিকদের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতে বিদ্যমান গৃহকর্মীদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি মনিটরিং সেলকে কার্যকর ও পরিদর্শন কার্যক্রম চালু করার কথা নীতিমালায় থাকলেও এখন পর্যন্ত এই নীতিমালা মূলত কাগজেই রয়ে গেছে। গৃহকর্মীরা যে তিমিরে ছিলেন সেই তিমিরেই রয়ে গেছেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বৈষম্য কমিয়ে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরিসহ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে : ড. খলীকুজ্জমান

আপডেট সময় : ০৭:০৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরিসহ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস আয়োজিত মহান মে দিবসের স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিলস ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঞাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান। বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজ ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং পেশাজীবী সংগঠনসমুহের নেতৃবৃন্দ স্মারক বক্তৃতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ আরো বলেন, বিগত একযুগে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে এর সামান্যই যে এদেশের সাধারণ শ্রমিক পেয়েছেন, তা তাদের আয়-বৈষম্য বৃদ্ধিই অনেকাংশে বলে দেয়। তিনি মন্তব্য করেন, মূল্যস্ফীতির উঁচু মাত্রার কারণে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে স্বল্প আয়ের মানুষের উপর চাপ অনেক বেড়েছে।
সুতরাং, বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের ঘোষিত যে নীতি রয়েছে সেটি বাস্তবায়নের দিকে নজর দেয়া জরুরি। শিল্পের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত মজুরি পরিবারের সকলের শোভন জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত কিনা এ প্রশ্ন রেখে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তৈরী পোশাক খাতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়, বৃদ্ধির অনুপাতে যা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পারিবারিক ভাবে শোভন জীবন-ধারন বিবেচনায় যে অংক বাড়ানো হয়েছে তা অপ্রতুল। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭০ টাকা করা হলেও এর ভিত্তি এত স্বল্প যে এই বৃদ্ধি প্রকৃত অর্থে তেমন কিছুই নয়।
তিনি বলেন, ভারতে শিল্প ও সামাজিক সুরক্ষা আইন ও বিধিমালার আওতায় চা শ্রমিকরাও সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। সুতরাং, বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের জীবনমান শোভন পর্যায়ে উন্নয়নের দাবি রাখে।
ড. খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, যে ৮৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসমূহে তাদের মধ্যে শ্রমিকদের ৮৫ শতাংশ না হলেও ব্যাপক সংখ্যক মানুষ শ্রমিক। এদের বেলায় শ্রমআইন, বিধিমালা, নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি, আর্থিক সুবিধা, ছুটির ধারণা, আইনি অধিকার ও বিধি-বিধান ছুঁয়ে যায় না। কুটির শিল্প ও মাইক্রো উদ্যোগ ও ব্যবসার দিকেও নজর দেয়ার প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে খলীকুজ্জমান বলেন, এক্ষেত্রে মালিকদেরকে অতি প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও শ্রমিকদের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতে বিদ্যমান গৃহকর্মীদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি মনিটরিং সেলকে কার্যকর ও পরিদর্শন কার্যক্রম চালু করার কথা নীতিমালায় থাকলেও এখন পর্যন্ত এই নীতিমালা মূলত কাগজেই রয়ে গেছে। গৃহকর্মীরা যে তিমিরে ছিলেন সেই তিমিরেই রয়ে গেছেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস