ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

মিয়ানমারের ১১ সদস্যের তদন্ত কমিশন পরিদর্শন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭
  • / 220
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

মিয়ানমার সরকার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিশনের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সোমবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আরকানের সহিংসতায় পালিয়ে এদেশে নতুন আশ্রয় নেয়া অন্তত ১০ জন নির্যাতিত নারী ও পুরুষের কাছ থেকে পৃথক সাক্ষাৎকার নেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু সহ বিভিন্ন এলাকায় সে’দেশের সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার ও ঘরবাড়ি হারানো রোহিঙ্গারা উখিয়ার বালুখালী বনভূমির জায়গা দখল করে আশ্রয় নেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই স্থানটি পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিধিদল।

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত নেয়া সহ ৬ দফা দাবী তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িতদের আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবী জানান তদন্ত কমিশনের কাছে ।

তদন্ত কমিশনের সদস্যরা হলেন-কমিশনের সদস্য সচিব জ্য মিন প্য, সদস্য ড. অং থুন তেথ সহ সদস্য মিস ক্যায়ান গেই ম্যান, কমিশনের কর্মচারী ইয়াং থোন, মিয়ানমারের বাংলাদেশ দুতাবাসের কাউন্সিল মিনিষ্টার অং মে আন, বাংলাদেশস্থ মিয়ানমার দুতাবাসের দোভাষি মং সিং থোয়াই, দোভাষি শাদুল্লাহ শাহ, কমিশনের স্টাফ মেয়াং হাইং।

প্রতিনিধিদলের সাথে ছিলেন আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম) প্রতিনিধি সৈকত বিশ্বাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রসংগত, ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে হামলার ঘটনায় অপারেশন ক্লিয়ারেন্স এর নামে প্রায় ৪ মাস ব্যাপী রাখাইন প্রদেশের মংডু, বুচিডং, আকিয়াবসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত পাড়া-গ্রাম গুলোতে সেনাবাহিনীর নের্তৃত্বে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। এসময় প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন মহল থেকে অপারেশনের নামে রোহিঙ্গা নিধনের প্রচেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেন। মিয়ানমার সরকার বার বার এসব

অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও সম্প্রতি মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষদূত ইয়াং ঘি লি ও আরকানের জন্য গঠিত আরকান কমিশন তথা জাতিসংঘের সাবেক মহা সচিব কপি আনান কমিশন অন্তবর্তিকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের সাথে সরাসরি কথা বলে মিয়ানমার তদন্ত কমিশনের বাংলাদেশে আগমন বলে জানা যায়।

রবিবার (১৯ মার্চ) বেলা ২ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। এর আগে তারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেনের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মিয়ানমারের ১১ সদস্যের তদন্ত কমিশন পরিদর্শন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭

কক্সবাজার প্রতিনিধি

মিয়ানমার সরকার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিশনের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সোমবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আরকানের সহিংসতায় পালিয়ে এদেশে নতুন আশ্রয় নেয়া অন্তত ১০ জন নির্যাতিত নারী ও পুরুষের কাছ থেকে পৃথক সাক্ষাৎকার নেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু সহ বিভিন্ন এলাকায় সে’দেশের সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার ও ঘরবাড়ি হারানো রোহিঙ্গারা উখিয়ার বালুখালী বনভূমির জায়গা দখল করে আশ্রয় নেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই স্থানটি পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিধিদল।

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত নেয়া সহ ৬ দফা দাবী তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িতদের আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবী জানান তদন্ত কমিশনের কাছে ।

তদন্ত কমিশনের সদস্যরা হলেন-কমিশনের সদস্য সচিব জ্য মিন প্য, সদস্য ড. অং থুন তেথ সহ সদস্য মিস ক্যায়ান গেই ম্যান, কমিশনের কর্মচারী ইয়াং থোন, মিয়ানমারের বাংলাদেশ দুতাবাসের কাউন্সিল মিনিষ্টার অং মে আন, বাংলাদেশস্থ মিয়ানমার দুতাবাসের দোভাষি মং সিং থোয়াই, দোভাষি শাদুল্লাহ শাহ, কমিশনের স্টাফ মেয়াং হাইং।

প্রতিনিধিদলের সাথে ছিলেন আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম) প্রতিনিধি সৈকত বিশ্বাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রসংগত, ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে হামলার ঘটনায় অপারেশন ক্লিয়ারেন্স এর নামে প্রায় ৪ মাস ব্যাপী রাখাইন প্রদেশের মংডু, বুচিডং, আকিয়াবসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত পাড়া-গ্রাম গুলোতে সেনাবাহিনীর নের্তৃত্বে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। এসময় প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন মহল থেকে অপারেশনের নামে রোহিঙ্গা নিধনের প্রচেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেন। মিয়ানমার সরকার বার বার এসব

অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও সম্প্রতি মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষদূত ইয়াং ঘি লি ও আরকানের জন্য গঠিত আরকান কমিশন তথা জাতিসংঘের সাবেক মহা সচিব কপি আনান কমিশন অন্তবর্তিকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের সাথে সরাসরি কথা বলে মিয়ানমার তদন্ত কমিশনের বাংলাদেশে আগমন বলে জানা যায়।

রবিবার (১৯ মার্চ) বেলা ২ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। এর আগে তারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেনের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।