সন্তান-পরিবার থেকেও পথে অসহায় বৃদ্ধা: হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০২:১৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
পরিবার ও সন্তান থাকার পরও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা, যাকে সবাই ‘ফুলি’ নামেই চেনেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বিপর্যস্ত এই নারী নিজের নাম-পরিচয়ও এখন ঠিকমতো বলতে পারছেন না। গত বুধবার বিকেলে সরাইল সদর ইউনিয়নের বড্ডাপাড়া গরুর বাজারের সামনে তাকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সন্তান ও পরিবার থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একাকী ও অসহায় দিন কাটাচ্ছেন ৭০ বছরের বেশি বয়সি ‘ফুলি’।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বাস্থ্যকর্মী রাসেল চৌধুরী ও অ্যাম্বুলেন্সচালক জাকিরুল ইসলাম তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বর্তমানে তার প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার, পানি, বালিশ ও চাটাইসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও ফুলি অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় তার ছেলে বাঁশের মই দিয়ে বহন করে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেও, এবার হাসপাতালে ভর্তির পর আর কোনো খোঁজ নেননি। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার জানান, ভুক্তভোগী বৃদ্ধার বাড়ি সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামে। তার একটি ছেলে রয়েছে, তবে তাকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেটিকে পাওয়া গেলে তার মায়ের বিষয়ে বিস্তারিত জেনে যথাযথ আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আজাহার উদ্দিন জানান, পরিবারের কোনো স্বজন দায়িত্ব নিতে এগিয়ে না এলে সংগঠনের পক্ষ থেকেই তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হবে। সুস্থ হওয়ার পর তার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সন্তানকে বড় করতে গিয়ে মা-বাবা নিজের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। অথচ বৃদ্ধ বয়সে সেই মা যখন হাসপাতালের বিছানায় অসহায় হয়ে থাকেন, তখন তার পাশে দাঁড়ানো সন্তানেরই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। এদিকে বৃদ্ধার এমন অসহায়ত্বে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত তাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ওই নারীর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও স্বজনদের খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একজন বৃদ্ধা মা যেন সন্তানের অবহেলায় জীবনের শেষ দিনগুলো কষ্টে কাটাতে বাধ্য না হন, সেজন্য সমাজের সচেতন সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।


























