ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

রাজনীতিকে বিদায় জানালেন শাহ মোয়াজ্জেম

  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০১৭
  • / 209
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১০ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ  স্মরণসভার আয়োজন করে কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, এখন ৮০ বছর চলছে। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। আমাকেও হয়তো মরহুম ওবায়দুর রহমানের কাছেই চলে যেতে হবে।’

‘এখানে অনেকেই উপস্থিত আছেন। অামি আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যদি কাউকে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি বিদায় নিয়ে যাচ্ছি।’

এ সময় সভামঞ্চে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তবে অনুষ্ঠানে শাহ মোয়াজ্জেমের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পর বিএনপি মহাসচিবসহ উপস্থিত নেতাদের কাউকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

এদিকে দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে শাহ মোয়াজ্জেমের অনুসারীরা প্রত্যাশা করেছিলেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে জায়গা পাবেন তিনি।

কিন্তু তাকে ভাইস চেয়ারম্যান করায় তার অনুসারীরা হতাশ। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাম ঘোষণার পর বেশিরভাগ সময় নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন দেশের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

এছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ নানা কাজেও অনেকটা ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে পোড় খাওয়া এ রাজনীতিক। তাই তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের বহু আন্দোলন, সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী এ নেতা ১৯৫২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথম কারাবরণ করেন।

সেখান থেকেই রাজনীতিতে আগমন ১৯৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার দোগাছি গ্রামে জন্ম নেয়া শাহ মোয়াজ্জেমের।

১৯৫২ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শাসনামলে কারাবরণ করেছেন তিনি। বন্ধুমহলে পরিচিত কারাগারের ‘পাখি’ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন জীবনের প্রায় ২০ বছর জেলে কাটিয়েছেন।

১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের সময় আইয়ুববিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলন ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভারতীয় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অগ্নিঝরা ভাষণ দেন তিনি।

হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম চিফ হুইপ হিসেবে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নানা স্থানে ছুটে যান।

১৯৭০ ও ’৭৩ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আবারও হুইপ হন। আশির দশকে এ নেতা জাতীয় পার্টির মহাসচিব, মন্ত্রী, সংসদ উপনেতা ও উপ-প্রধামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজনীতিকে বিদায় জানালেন শাহ মোয়াজ্জেম

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০১৭

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১০ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ  স্মরণসভার আয়োজন করে কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, এখন ৮০ বছর চলছে। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। আমাকেও হয়তো মরহুম ওবায়দুর রহমানের কাছেই চলে যেতে হবে।’

‘এখানে অনেকেই উপস্থিত আছেন। অামি আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যদি কাউকে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি বিদায় নিয়ে যাচ্ছি।’

এ সময় সভামঞ্চে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তবে অনুষ্ঠানে শাহ মোয়াজ্জেমের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পর বিএনপি মহাসচিবসহ উপস্থিত নেতাদের কাউকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

এদিকে দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে শাহ মোয়াজ্জেমের অনুসারীরা প্রত্যাশা করেছিলেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে জায়গা পাবেন তিনি।

কিন্তু তাকে ভাইস চেয়ারম্যান করায় তার অনুসারীরা হতাশ। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নাম ঘোষণার পর বেশিরভাগ সময় নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন দেশের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

এছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ নানা কাজেও অনেকটা ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে পোড় খাওয়া এ রাজনীতিক। তাই তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের বহু আন্দোলন, সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী এ নেতা ১৯৫২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথম কারাবরণ করেন।

সেখান থেকেই রাজনীতিতে আগমন ১৯৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার দোগাছি গ্রামে জন্ম নেয়া শাহ মোয়াজ্জেমের।

১৯৫২ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শাসনামলে কারাবরণ করেছেন তিনি। বন্ধুমহলে পরিচিত কারাগারের ‘পাখি’ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন জীবনের প্রায় ২০ বছর জেলে কাটিয়েছেন।

১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের সময় আইয়ুববিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলন ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভারতীয় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অগ্নিঝরা ভাষণ দেন তিনি।

হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম চিফ হুইপ হিসেবে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নানা স্থানে ছুটে যান।

১৯৭০ ও ’৭৩ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আবারও হুইপ হন। আশির দশকে এ নেতা জাতীয় পার্টির মহাসচিব, মন্ত্রী, সংসদ উপনেতা ও উপ-প্রধামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।