ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হাজং ভাষার সুরক্ষায় বই প্রকাশ করলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন কক্সবাজার বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজের প্রথম ব্যবহার ইউএস-বাংলার বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনে আওয়ামী লীগ: রিজভী নারায়ণগঞ্জে ভোরে ছিনতাইয়ের কবলে সাংবাদিক ও তার মেয়ে মক্কায় দুই বাংলাদেশির দণ্ডাদেশ: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল সরকার দুই বছরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়বে ইউজিসি নেত্রকোণায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ মামলার অগ্রগতি ফাঁকা শাহজালাল বিমানবন্দর: সৌদি রুটে ফ্লাইট বন্ধে বদলেছে চিত্র

হরমুজ এড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে আমিরাত

  • আপডেট সময় : ১১:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 31
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের নজর কাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত। রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

নতুন এই পাইপলাইনটি চালু হলে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে দেশটির তেল রপ্তানি ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ঠিক দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আবুধাবি মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আডনক’-কে এই ‘ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্মাণাধীন এই পাইপলাইনটি ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকেই বিকল্প এই পথ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে আমিরাত। বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথটি দিয়ে পরিবাহিত হলেও যুদ্ধের কারণে বর্তমানে তা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে কুয়েত, ইরাক, কাতার বা বাহরাইনের মতো দেশগুলো তেল রপ্তানিতে চরম বিপাকে পড়লেও, ভৌগোলিক সুবিধার কারণে ভিন্ন পথ বেছে নিতে পারছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বর্তমানে ইউএই-এর ‘হাবশান-ফুজাইরাহ’ পাইপলাইনটি দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমূজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরের উপকূলে পাঠানো সম্ভব হয়। নতুন পাইপলাইনটি চালু হলে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে দৈনিক প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে আমিরাত যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করত, তার প্রায় পুরোটাই হরমূজ প্রণালী স্পর্শ না করে বিশ্ববাজারে পাঠানো সম্ভব হবে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ থেকে নাটকীয়ভাবে বের হয়ে আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, কোটার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি নিজের মতো করে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে চায়। ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা আডনক নির্ধারণ করেছে। এই নতুন পাইপলাইনটি সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

তবে পাইপলাইনের এই রুটটি ওমান উপসাগরে হওয়ায় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বাইরে নয়। চলমান যুদ্ধের মধ্যে ফুজাইরাহ বন্দর এবং হাবশানের গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটলেও, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইনকেই নিজেদের সবচেয়ে বড় লাইফলাইন বা ভরসা হিসেবে দেখছে আবুধাবি।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হরমুজ এড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে আমিরাত

আপডেট সময় : ১১:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের নজর কাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত। রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

নতুন এই পাইপলাইনটি চালু হলে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে দেশটির তেল রপ্তানি ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ঠিক দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আবুধাবি মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আডনক’-কে এই ‘ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্মাণাধীন এই পাইপলাইনটি ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকেই বিকল্প এই পথ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে আমিরাত। বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথটি দিয়ে পরিবাহিত হলেও যুদ্ধের কারণে বর্তমানে তা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে কুয়েত, ইরাক, কাতার বা বাহরাইনের মতো দেশগুলো তেল রপ্তানিতে চরম বিপাকে পড়লেও, ভৌগোলিক সুবিধার কারণে ভিন্ন পথ বেছে নিতে পারছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বর্তমানে ইউএই-এর ‘হাবশান-ফুজাইরাহ’ পাইপলাইনটি দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমূজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরের উপকূলে পাঠানো সম্ভব হয়। নতুন পাইপলাইনটি চালু হলে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে দৈনিক প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে আমিরাত যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করত, তার প্রায় পুরোটাই হরমূজ প্রণালী স্পর্শ না করে বিশ্ববাজারে পাঠানো সম্ভব হবে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ থেকে নাটকীয়ভাবে বের হয়ে আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, কোটার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি নিজের মতো করে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে চায়। ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা আডনক নির্ধারণ করেছে। এই নতুন পাইপলাইনটি সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

তবে পাইপলাইনের এই রুটটি ওমান উপসাগরে হওয়ায় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বাইরে নয়। চলমান যুদ্ধের মধ্যে ফুজাইরাহ বন্দর এবং হাবশানের গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটলেও, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইনকেই নিজেদের সবচেয়ে বড় লাইফলাইন বা ভরসা হিসেবে দেখছে আবুধাবি।
বিডিসংবাদ/এএইচএস