ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নাটোরের দুই লাখ পশু উদ্বৃত্ত, যাচ্ছে সারাদেশে

  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 64
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ঈদুল-আযহা উপলক্ষে জেলায় প্রস্তুত চার লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি কোরবানির পশুর মধ্যে উদ্বৃত্ত আছে দুই লাখ ৮২৬টি।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব পশু যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নাটোরে এ বছর ২০ হাজার ৩৭৪ জন খামারি মোট চার লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন।

এরমধ্যে গরু এক লাখ ১৮ হাজার ৫০৫টি, মহিষ দুই হাজার ৫২০টি, ছাগল তিন লাখ ২০ হাজার ৩৭১টি, ভেড়া ৩৪ হাজার ৩৮টি এবং অন্যান্য তিনটি।

এ বছর কোরবানি পশুর চাহিদা দুই লাখ ৭৪ হাজার ৬১১টি। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত থাকছে দুই লাখ ৮২৬টি।

ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার থেকে বিরত থেকে নিরাপদ উপায়ে পশু হৃষ্ট-পুষ্টকরণে জেলায় এ পর্যন্ত ৪২৫ জন খামারিকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ১১৪টি উঠান বৈঠক, প্রায় পাঁচ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ নিয়মিত খামার পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি খামারগুলোতে চুরি রোধ করে পশুগুলো নিরাপদ রাখা, পশু পরিবহন, অর্থ লেনদেন ইত্যাদি বিষয়েও খামারিদের সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান নাটোর সদর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন।

নাটোর সদর উপজেলার ডালসড়ক এলাকার সৌখিন এবং আদর্শ খামারি রেকাত আলী এ বছর তার ড্রিমল্যান্ড ডেইরি ফার্মে দেড় শতাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। পশু পালনে নিজস্ব ২০ বিঘা জমিতে তিনি উন্নতজাতের ঘাসও আবাদ করেছেন।

রেকাত আলী বলেন, আমার খামারের গরুর ক্রেতা প্রায় সকলেই রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকার। আগ্রহী সৌখিন ক্রেতারা খামারে এসে দেখে শুনে পশু কিনছেন। ইতোমধ্যে ৪৫টি গরু বিক্রি করেছি। সর্বোচ্চ ২২ লাখ টাকা দামে একটি গরু বিক্রি হয়েছে।

কোরবানি ঈদকে উপলক্ষ করে এবার সুন্দরবন জাতের ৪৫টি গরু সম্প্রতি সংগ্রহ করেছি। ছোট আকারের এসব গরু অল্প দামে ক্রয় করতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্যে উপযোগী বলে জানান রেকাত আলী।

শহরতলীর তেবাড়িয়া এলাকায় আয়শা এগ্রো ফার্মে ৮০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফার্মের স্বত্বাধিকারী আকবর আলী বলেন, নাটোর ছাড়াও ঢাকা ও নোয়াখালীর হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নাটোরের খামারিরা ঢাকার কচুক্ষেত, গাবতলী, মীরপুর, শাহজাহানপুর, বারিধারা, হাজারীবাগ, বাড্ডা, মৌচাক, ক্যান্টনমেন্ট হাট, তেজগাঁও, রামপুরা ইত্যাদি হাটে সচরাচর গিয়ে থাকেন।

আজ সোমবার নাটোরের সিংড়া হাট। প্রচুর গরু-ছাগলের সমাগম, সাথে ক্রেতা-বিক্রেতা। তবে কেনাবেচার চেয়ে দরদামই চলছে বেশি।

বিক্রেতা হারেছ আলী জানান, গরুর দাম বলেছি দেড় লাখ, ক্রিতা কিনতে চায় এক লাখ ২০ হাজারে।

ক্রেতা আব্দুস শামীম সেলিম বলেন, মনে হচ্ছে এবার গরু-ছাগলের দাম কম হবে। তাই দেখে শুনে সময় নিয়ে কিনতে চাই।

সিংড়া হাট পরিদর্শনকালে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, সিংড়াসহ জেলার ১২টি স্থায়ী হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। এই টিম সুস্থ গরু-ছাগল কিনতে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বাসসকে বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকে জেলার ১২টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী হাট এবং জেলার বাইরে পশুর বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নাটোর থেকে দেশের বিভিনস্থানে যেতে ইচ্ছুক খামারিদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে নিরাপদ করতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি আমরা।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাটোরের দুই লাখ পশু উদ্বৃত্ত, যাচ্ছে সারাদেশে

আপডেট সময় : ০৫:০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ঈদুল-আযহা উপলক্ষে জেলায় প্রস্তুত চার লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি কোরবানির পশুর মধ্যে উদ্বৃত্ত আছে দুই লাখ ৮২৬টি।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব পশু যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নাটোরে এ বছর ২০ হাজার ৩৭৪ জন খামারি মোট চার লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন।

এরমধ্যে গরু এক লাখ ১৮ হাজার ৫০৫টি, মহিষ দুই হাজার ৫২০টি, ছাগল তিন লাখ ২০ হাজার ৩৭১টি, ভেড়া ৩৪ হাজার ৩৮টি এবং অন্যান্য তিনটি।

এ বছর কোরবানি পশুর চাহিদা দুই লাখ ৭৪ হাজার ৬১১টি। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত থাকছে দুই লাখ ৮২৬টি।

ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার থেকে বিরত থেকে নিরাপদ উপায়ে পশু হৃষ্ট-পুষ্টকরণে জেলায় এ পর্যন্ত ৪২৫ জন খামারিকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ১১৪টি উঠান বৈঠক, প্রায় পাঁচ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ নিয়মিত খামার পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি খামারগুলোতে চুরি রোধ করে পশুগুলো নিরাপদ রাখা, পশু পরিবহন, অর্থ লেনদেন ইত্যাদি বিষয়েও খামারিদের সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান নাটোর সদর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন।

নাটোর সদর উপজেলার ডালসড়ক এলাকার সৌখিন এবং আদর্শ খামারি রেকাত আলী এ বছর তার ড্রিমল্যান্ড ডেইরি ফার্মে দেড় শতাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। পশু পালনে নিজস্ব ২০ বিঘা জমিতে তিনি উন্নতজাতের ঘাসও আবাদ করেছেন।

রেকাত আলী বলেন, আমার খামারের গরুর ক্রেতা প্রায় সকলেই রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকার। আগ্রহী সৌখিন ক্রেতারা খামারে এসে দেখে শুনে পশু কিনছেন। ইতোমধ্যে ৪৫টি গরু বিক্রি করেছি। সর্বোচ্চ ২২ লাখ টাকা দামে একটি গরু বিক্রি হয়েছে।

কোরবানি ঈদকে উপলক্ষ করে এবার সুন্দরবন জাতের ৪৫টি গরু সম্প্রতি সংগ্রহ করেছি। ছোট আকারের এসব গরু অল্প দামে ক্রয় করতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্যে উপযোগী বলে জানান রেকাত আলী।

শহরতলীর তেবাড়িয়া এলাকায় আয়শা এগ্রো ফার্মে ৮০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফার্মের স্বত্বাধিকারী আকবর আলী বলেন, নাটোর ছাড়াও ঢাকা ও নোয়াখালীর হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নাটোরের খামারিরা ঢাকার কচুক্ষেত, গাবতলী, মীরপুর, শাহজাহানপুর, বারিধারা, হাজারীবাগ, বাড্ডা, মৌচাক, ক্যান্টনমেন্ট হাট, তেজগাঁও, রামপুরা ইত্যাদি হাটে সচরাচর গিয়ে থাকেন।

আজ সোমবার নাটোরের সিংড়া হাট। প্রচুর গরু-ছাগলের সমাগম, সাথে ক্রেতা-বিক্রেতা। তবে কেনাবেচার চেয়ে দরদামই চলছে বেশি।

বিক্রেতা হারেছ আলী জানান, গরুর দাম বলেছি দেড় লাখ, ক্রিতা কিনতে চায় এক লাখ ২০ হাজারে।

ক্রেতা আব্দুস শামীম সেলিম বলেন, মনে হচ্ছে এবার গরু-ছাগলের দাম কম হবে। তাই দেখে শুনে সময় নিয়ে কিনতে চাই।

সিংড়া হাট পরিদর্শনকালে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, সিংড়াসহ জেলার ১২টি স্থায়ী হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। এই টিম সুস্থ গরু-ছাগল কিনতে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বাসসকে বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকে জেলার ১২টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী হাট এবং জেলার বাইরে পশুর বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নাটোর থেকে দেশের বিভিনস্থানে যেতে ইচ্ছুক খামারিদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে নিরাপদ করতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি আমরা।
বিডিসংবাদ/এএইচএস