মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে ডিএমপি
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 9
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কমিশনার স্পষ্ট করে জানান, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব আর সহ্য করা হবে না এবং এই এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকাভিত্তিক মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তবে ডিএমপি কমিশনার জানান, সাম্প্রতিক তিন মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে, কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও জনসচেতনতা ও এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আটটি বিট কার্যকর রয়েছে জানিয়ে কমিশনার তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও জোরদার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এছাড়া এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত মাদক স্পট ও গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা ধরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে এবং রাতে সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করতে হবে।
কিশোর গ্যাং দমনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে সভায় জানানো হয়। ছিনতাইকারীদের প্রসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে কমিশনার জানান, অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় আইনত অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পুলিশ পিছপা হবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। কমিশনার জানান, ওই এলাকায় প্রায় পাঁচ কাঠা জমি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে দ্রুত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে।
নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধ নির্মূলে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ। এলাকার ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সার্বিক তথ্য ও সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানান তিনি।
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি, এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান এবং তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে উদাহরণ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আটটি বিটের কর্মকর্তাদের শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতি দ্রুত মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের কথাও জানান তিনি।

























