ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে প্রতারণার শিকার জার্মান পর্যটক সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি বলে বহিষ্কার নয়: কলকাতা হাইকোর্ট উত্তর ওয়াজিরস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭ সন্ত্রাসী নিহত খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত এসআই, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা প্রেরণ সিরাজগঞ্জে গাছ পরিষ্কারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে অনিয়মের দায়ে পৌনে দুই লাখ টাকা জরিমানা নিউইয়র্কে দুর্গাপূজার ধুম, টাইমস স্কয়ারে বিশেষ আয়োজন সৌদিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েন: ইয়েমেনে হামলা নয়, কেবল প্রতিরক্ষা হুতিদের হামলায় অচল রিয়াদ বিমানবন্দর, বাতিল শত শত ফ্লাইট

সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে হুতিদের ড্রোন হামলা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

  • আপডেট সময় : ০২:১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের তেল রপ্তানির প্রধান পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুতি বিদ্রোহীদের এই হামলার ফলে লোহিত সাগরমুখী গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম এই পাইপলাইনটি শুক্রবার থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। পাইপলাইনটি দ্রুত সচল করা না গেলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় প্রায় চার শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা নতুন করে বড় ধরনের জ্বালানি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মেরামতের সময়সীমা নিয়ে রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে সম্পূর্ণ সংস্কারে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। বর্তমানে ইয়ানবু বন্দরে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের তেল মজুত রয়েছে এবং মিশরের দুটি বন্দর থেকে কিছু সরবরাহ সম্ভব হলেও পাইপলাইন পুরোপুরি সচল না হলে দ্রুতই এই মজুত ফুরিয়ে যাবে। বিকল্প হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে আংশিক সরবরাহ চালুর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব এই পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, আগস্ট মাসেই সৌদির তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি ও বন্ডের সুদহার কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা বাড়ছে। যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে কমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। সার্বিকভাবে সৌদি আরবের দৈনিক তেল উৎপাদনও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে হুতিদের ড্রোন হামলা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের তেল রপ্তানির প্রধান পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুতি বিদ্রোহীদের এই হামলার ফলে লোহিত সাগরমুখী গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম এই পাইপলাইনটি শুক্রবার থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। পাইপলাইনটি দ্রুত সচল করা না গেলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় প্রায় চার শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা নতুন করে বড় ধরনের জ্বালানি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মেরামতের সময়সীমা নিয়ে রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে সম্পূর্ণ সংস্কারে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। বর্তমানে ইয়ানবু বন্দরে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের তেল মজুত রয়েছে এবং মিশরের দুটি বন্দর থেকে কিছু সরবরাহ সম্ভব হলেও পাইপলাইন পুরোপুরি সচল না হলে দ্রুতই এই মজুত ফুরিয়ে যাবে। বিকল্প হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে আংশিক সরবরাহ চালুর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব এই পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, আগস্ট মাসেই সৌদির তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি ও বন্ডের সুদহার কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা বাড়ছে। যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে কমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। সার্বিকভাবে সৌদি আরবের দৈনিক তেল উৎপাদনও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।