ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে সরব মমতা ইউএস এম্বাসির অ্যাকসেস প্রোগ্রাম শেষ করলেন সমৃদ্ধি হালদার সব সরকারি সেবা মিলবে এক প্ল্যাটফর্মে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকাদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক

  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বৃটেন ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর বিরুদ্ধে বৃটেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইসরাইল থেকে ২০ জন বৃটিশ কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তবে পূর্ব জেরুজালেমে বৃটিশ উপস্থিতি বজায় রাখার অংশ হিসেবে কনস্যুলেটটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’। এমনকি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইসরাইল।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল তার বর্তমান কাঠামোয় আর কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। বৃহস্পতিবার থেকেই কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ছাড়ছেন। বৃটিশ সরকার কনস্যুলেট ভবনটির মালিকানায় থাকলেও সেখানে এখন মাত্র সাতজন কর্মী সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালন করবেন। ভবন থেকে ‘বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল’ লেখা ফলক ও সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ডগুলো এরই মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’আর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার নীতিতে অটল থাকবে তেল আবিব। কনসাল জেনারেলসহ ওই কনস্যুলেটে কর্মরত ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ছেড়ে যাবেন। এরপর আরও কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। তার ভাষ্য, কর্মীদের ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বৃটেন চাইলে ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করার সক্ষমতা রাখত। তবে সমঝোতার অংশ হিসেবে বৃটেনে অবস্থানরত ইসরাইলি কূটনীতিকদের নিজ নিজ অবস্থানে থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা কনস্যুলেট বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরাইলের আছে বলে তারা স্বীকার করে না। তিনি আরও বলেন, পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড, যে বিষয়ে বৃটিশ সরকার দীর্ঘদিনের অবস্থানে অবিচল রয়েছে। মিলিব্যান্ডের ভাষ্যমতে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নাম নিয়ে এই নতুন কূটনৈতিক উপস্থিতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান ও তাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বৃটেন। আর তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে ইসরাইলি সেনারা। এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে আমাদের কাজ’ অব্যাহত রাখবে।

কর্মী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তকে মিলিব্যান্ড নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ‘সাময়িক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে জেরুজালেমে বৃটেনের কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্গঠনে লন্ডন কাজ করবে এবং আলোচনা চলাকালীন কোনো পক্ষই পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেবে না। এছাড়া গত ৮ই সেপ্টেম্বর দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে বৃটেন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেগুলোর প্রতি নিজের দেশের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক

আপডেট সময় : ০১:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বৃটেন ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর বিরুদ্ধে বৃটেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইসরাইল থেকে ২০ জন বৃটিশ কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তবে পূর্ব জেরুজালেমে বৃটিশ উপস্থিতি বজায় রাখার অংশ হিসেবে কনস্যুলেটটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’। এমনকি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইসরাইল।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল তার বর্তমান কাঠামোয় আর কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। বৃহস্পতিবার থেকেই কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ছাড়ছেন। বৃটিশ সরকার কনস্যুলেট ভবনটির মালিকানায় থাকলেও সেখানে এখন মাত্র সাতজন কর্মী সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালন করবেন। ভবন থেকে ‘বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল’ লেখা ফলক ও সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ডগুলো এরই মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’আর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার নীতিতে অটল থাকবে তেল আবিব। কনসাল জেনারেলসহ ওই কনস্যুলেটে কর্মরত ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ছেড়ে যাবেন। এরপর আরও কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। তার ভাষ্য, কর্মীদের ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বৃটেন চাইলে ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করার সক্ষমতা রাখত। তবে সমঝোতার অংশ হিসেবে বৃটেনে অবস্থানরত ইসরাইলি কূটনীতিকদের নিজ নিজ অবস্থানে থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা কনস্যুলেট বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরাইলের আছে বলে তারা স্বীকার করে না। তিনি আরও বলেন, পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড, যে বিষয়ে বৃটিশ সরকার দীর্ঘদিনের অবস্থানে অবিচল রয়েছে। মিলিব্যান্ডের ভাষ্যমতে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নাম নিয়ে এই নতুন কূটনৈতিক উপস্থিতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান ও তাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বৃটেন। আর তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে ইসরাইলি সেনারা। এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে আমাদের কাজ’ অব্যাহত রাখবে।

কর্মী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তকে মিলিব্যান্ড নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ‘সাময়িক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে জেরুজালেমে বৃটেনের কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্গঠনে লন্ডন কাজ করবে এবং আলোচনা চলাকালীন কোনো পক্ষই পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেবে না। এছাড়া গত ৮ই সেপ্টেম্বর দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে বৃটেন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেগুলোর প্রতি নিজের দেশের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।