ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই রিকশাচালকের ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা: চিফ হুইপ নাটোরে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে প্রতারণার শিকার জার্মান পর্যটক সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি বলে বহিষ্কার নয়: কলকাতা হাইকোর্ট উত্তর ওয়াজিরস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭ সন্ত্রাসী নিহত খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত এসআই, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা প্রেরণ সিরাজগঞ্জে গাছ পরিষ্কারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে অনিয়মের দায়ে পৌনে দুই লাখ টাকা জরিমানা নিউইয়র্কে দুর্গাপূজার ধুম, টাইমস স্কয়ারে বিশেষ আয়োজন

সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি বলে বহিষ্কার নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

  • আপডেট সময় : ০২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কেবলমাত্র সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার বা ডিপোর্ট করার আইনি এখতিয়ার রাজ্য সরকারের নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটকে রেখে তাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেন। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সুতরাং, যেকোনো ব্যক্তিকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা। রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার যুক্তি দেন যে, আটক ব্যক্তি হয়তো জাল বা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকায় নাম, নাগরিকত্ব এবং নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আদালতে দায়ের করা রিট আবেদনটি করেছিলেন ওই আটক ব্যক্তির স্ত্রী। তিনি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) পক্ষ থেকে তার স্বামী ও তাকে দেশান্তরের নির্দেশ এবং স্বামীর আটকের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতে জানান, তার মক্কেল গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। আইনজীবীর দাবি, শুধুমাত্র কিছু প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের বশেই তাকে আটক রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, ‘গত ৮ আগস্ট থেকে কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের ভিত্তি’তেই তার মক্কেলকে আটকে রাখা হয়েছে।

শুনানি চলাকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দেশছাড়া করার প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া। কিন্তু এই মামলায় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে সেই সুযোগ দেয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। নাগরিকত্বের বিষয়টি নির্ধারণে সঠিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে এভাবে আটক রাখা যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিচারপ্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে বিচারপতি প্রশ্ন রাখেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে কত লোক এভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছেন? বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেবল এ ধরনের তথ্যের ওপর ভর করে কীভাবে একজন মানুষের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। গুটি কয়েক মানুষের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়ে অনুরোধ করেছেন যেন এটি যথাযথ শুনানির জন্য একটি নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জোরালো হয়েছে যে, বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের আদেশ ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে বিএসএফের সহায়তায় তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ আটকে রেখে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় দ্রুত ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতীতে এমন চারজন ভারতীয় নাগরিক—যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল—বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় এক বছর কাটানোর পর আদালতের নির্দেশে গত জুলাই মাসে মালদার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই নতুন সরকার ‘ডিটেইন, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (আটক, বাতিল ও বিতাড়ন) নীতি ঘোষণা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি বলে বহিষ্কার নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কেবলমাত্র সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার বা ডিপোর্ট করার আইনি এখতিয়ার রাজ্য সরকারের নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটকে রেখে তাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেন। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সুতরাং, যেকোনো ব্যক্তিকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা। রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার যুক্তি দেন যে, আটক ব্যক্তি হয়তো জাল বা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন ভোটার তালিকায় নাম, নাগরিকত্ব এবং নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আদালতে দায়ের করা রিট আবেদনটি করেছিলেন ওই আটক ব্যক্তির স্ত্রী। তিনি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) পক্ষ থেকে তার স্বামী ও তাকে দেশান্তরের নির্দেশ এবং স্বামীর আটকের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতে জানান, তার মক্কেল গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। আইনজীবীর দাবি, শুধুমাত্র কিছু প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের বশেই তাকে আটক রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, ‘গত ৮ আগস্ট থেকে কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের ভিত্তি’তেই তার মক্কেলকে আটকে রাখা হয়েছে।

শুনানি চলাকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দেশছাড়া করার প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া। কিন্তু এই মামলায় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে সেই সুযোগ দেয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। নাগরিকত্বের বিষয়টি নির্ধারণে সঠিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে এভাবে আটক রাখা যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিচারপ্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে বিচারপতি প্রশ্ন রাখেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে কত লোক এভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছেন? বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেবল এ ধরনের তথ্যের ওপর ভর করে কীভাবে একজন মানুষের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। গুটি কয়েক মানুষের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়ে অনুরোধ করেছেন যেন এটি যথাযথ শুনানির জন্য একটি নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জোরালো হয়েছে যে, বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের আদেশ ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে বিএসএফের সহায়তায় তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ আটকে রেখে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় দ্রুত ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতীতে এমন চারজন ভারতীয় নাগরিক—যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল—বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় এক বছর কাটানোর পর আদালতের নির্দেশে গত জুলাই মাসে মালদার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই নতুন সরকার ‘ডিটেইন, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (আটক, বাতিল ও বিতাড়ন) নীতি ঘোষণা করে।