সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফেরত না
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
সৌদি আরবে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর অনেক প্রবাসী কর্মীর মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। এই অমানবিক পরিস্থিতিতে শোকাহত পরিবারগুলো তাদের স্বজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার কয়েকটি পরিবার তাদের প্রিয়জনের মরদেহ ফেরত পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে গাঁজা পাচারের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ পাঁচজন ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এই তালিকায় ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউইও ছিলেন। কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই জানিয়েছেন, পরিবার হিসেবে তারা ধর্মীয় রীতি মেনে ছেলেকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু মরদেহ না পাওয়ায় সেই শেষ ইচ্ছাটুকু অপূর্ণ রয়ে গেছে, যা তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে থেকে যাবে। ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রিয়জনকে কফিনে ভরে পরিবারের উপস্থিতিতে সমাহিত করা অপরিহার্য, কিন্তু এই অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পর্যন্ত গত এক বছরে সৌদি আরবে মোট ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তার তালিকায় চীন ও ইরানের পরেই রয়েছে সৌদি আরবের নাম। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি মরদেহ ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি মানবাধিকার কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি মনে করেন, মরদেহ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাটিকে কেবল প্রশাসনিক বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, এর মাধ্যমে মূলত মৃত ব্যক্তির পরিবারের ওপরও এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলোর দাবি, অপরাধ যা-ই হোক, একজন প্রিয়জনের মৃত্যুর পর অন্তত ধর্মীয় রীতি ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের ন্যূনতম মানবিক সুযোগ তাদের প্রাপ্য।
সৌদি আরবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কঠোর আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতা এবং পরিবারগুলোকে অন্ধকারে রাখার বিষয়টি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। নিহতদের স্বজনরা এখনও আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে, যাতে তারা অন্তত শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন।

























