উন্নত রাষ্ট্র গড়তে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সুশাসনের সমন্বিত রূপরেখা
- আপডেট সময় : ০৭:১৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে উন্নয়নের সনাতন চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সুশাসনের এক সমন্বিত রূপরেখা প্রয়োজন। এই লক্ষ্য অর্জনে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কেবল তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে প্রাথমিক গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কাজ পরিচালনার বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রস্তাবকরা মনে করছেন, সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য না হলেও, একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অধীনে সংস্কার কার্যক্রম চালানো গেলে দেশ আমূল বদলে যেতে পারে।
দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বর্তমানে বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ তাদের অধ্যয়নের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এই চিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দশম শ্রেণি (ক-১০) পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতভিত্তিক (STEM) কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, ব্যবহারিক ও সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে থাকা প্রায় ৭৪ থেকে ৭৫ হাজার মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তরের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।
অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পের প্রসার প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এই চিত্র বদলাতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যথাযথ নীতি অনুসরণ করা যায়, তবে বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব। এর ফলে দেশে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের পাশাপাশি সফটওয়্যার শিল্পে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া, দেশের নদী ও সমুদ্রস্রোত কাজে লাগিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল) এবং টেলিটকের মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে ১০ বছর মেয়াদী একটি জাতীয় টেলিকম মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া টেলিকম খাত সংস্কার গবেষণার সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে কর ও ভ্যাট মিলিয়ে বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা, যা জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৭ শতাংশের মতো। অথচ মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে এই হার প্রায় ২২ শতাংশ। এই অনুপাত বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষে বিচারিক ও প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দেওয়া হয়েছে। আদালতে মামলার জট কমাতে প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী, আইনজীবী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সমন্বয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মামলা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা হলে বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আসবে। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো সঠিক পথে পরিচালিত হলে বাংলাদেশ দ্রুত একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তৈরি হয় তার দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদনশীল শিল্প, কার্যকর রাজস্বব্যবস্থা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সুশাসন এবং নৈতিক নাগরিকত্বের ওপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই জায়গাগুলোতে কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বাস্তবতা সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের একটি দল বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এগুলোকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে নয়, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে যাচাইযোগ্য উন্নয়ন-প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবচেয়ে জরুরি পরিবর্তন দরকার শিক্ষায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে পরীক্ষার ফল ও মুখস্থনির্ভর জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ ভবিষ্যতের কর্মবাজারে সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তি ব্যবহার, যোগাযোগ, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের মতো দক্ষতার মূল্য বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা পরিমাপের প্রস্তাবটি পরীক্ষামূলকভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।























