ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জাপানে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর হচ্ছে

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 17
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য স্থায়ী আবাসনের শর্তাবলী আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে দেশটির সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘকাল ধরে জাপানে অবস্থানরত বিদেশিদের ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পারিবারিক বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের তুলনায় বেশি। এছাড়া জাপানি ভাষায় পারদর্শিতার পাশাপাশি আবেদনকারীর এমন একটি পেনশন তহবিলের হিসাব থাকতে হবে, যা ৩০ বছরের নিয়মিত অর্থ প্রদানের সমান। এই কঠিন শর্তগুলো ১ অক্টোবর থেকে শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

কাজের সন্ধানে আট বছর আগে জাপান পাড়ি দেওয়া প্রকৌশলী আব্দুল এখন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি ও তার স্ত্রী স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নিলেও নতুন নিয়মে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি জাপানের বাইরে অন্য কোথাও কাজের সন্ধানের কথা ভাবছেন। একইভাবে ১৪ বছর ধরে জাপানে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও একই সংকটে পড়েছেন। নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাতে নিজের বর্তমান মার্কিন নাগরিকত্ব বিসর্জন দিতে হতে পারে, যা তাকে বড় ধরনের দ্বিধায় ফেলেছে।

জাপান সরকারের অভিবাসন সংস্থার স্পষ্ট বক্তব্য হলো, বিদেশিদের স্বনির্ভরভাবে বেঁচে থাকার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকা চলবে না। যদিও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, জাপানের জনসংখ্যা কমছে এবং শ্রমশক্তির তীব্র সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি কর্মীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে তাদের কাছে জাপানের আকর্ষণ কমে যেতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ডেকে আনবে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। অভিবাসন ইস্যুটি বর্তমানে জাপানি রাজনীতিতে বেশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক আর নতুন অভিবাসী গ্রহণের বিরোধী। এই হার ২০২৪ সালে ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা জাপানিদের মনোভাব পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমানে জাপানে অবস্থানরত দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে, বিশেষ করে অনলাইন জগতে তাদের প্রতি বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। জন্মহার হ্রাস এবং শ্রমঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কঠিন নীতিগত ভারসাম্য রক্ষা করা জাপানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য স্থায়ী আবাসনের শর্তাবলী আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে দেশটির সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘকাল ধরে জাপানে অবস্থানরত বিদেশিদের ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পারিবারিক বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের তুলনায় বেশি। এছাড়া জাপানি ভাষায় পারদর্শিতার পাশাপাশি আবেদনকারীর এমন একটি পেনশন তহবিলের হিসাব থাকতে হবে, যা ৩০ বছরের নিয়মিত অর্থ প্রদানের সমান। এই কঠিন শর্তগুলো ১ অক্টোবর থেকে শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

কাজের সন্ধানে আট বছর আগে জাপান পাড়ি দেওয়া প্রকৌশলী আব্দুল এখন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি ও তার স্ত্রী স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নিলেও নতুন নিয়মে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি জাপানের বাইরে অন্য কোথাও কাজের সন্ধানের কথা ভাবছেন। একইভাবে ১৪ বছর ধরে জাপানে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও একই সংকটে পড়েছেন। নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাতে নিজের বর্তমান মার্কিন নাগরিকত্ব বিসর্জন দিতে হতে পারে, যা তাকে বড় ধরনের দ্বিধায় ফেলেছে।

জাপান সরকারের অভিবাসন সংস্থার স্পষ্ট বক্তব্য হলো, বিদেশিদের স্বনির্ভরভাবে বেঁচে থাকার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকা চলবে না। যদিও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, জাপানের জনসংখ্যা কমছে এবং শ্রমশক্তির তীব্র সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি কর্মীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে তাদের কাছে জাপানের আকর্ষণ কমে যেতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ডেকে আনবে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। অভিবাসন ইস্যুটি বর্তমানে জাপানি রাজনীতিতে বেশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক আর নতুন অভিবাসী গ্রহণের বিরোধী। এই হার ২০২৪ সালে ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা জাপানিদের মনোভাব পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমানে জাপানে অবস্থানরত দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে, বিশেষ করে অনলাইন জগতে তাদের প্রতি বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। জন্মহার হ্রাস এবং শ্রমঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কঠিন নীতিগত ভারসাম্য রক্ষা করা জাপানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।