বোয়িংয়ের বহর বাড়াচ্ছে বিমান: কেন এত চাহিদা?
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
আকাশপথে যাত্রী পরিবহনে বোয়িং বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত নাম। যুক্তরাষ্ট্রের এই উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ৭৩৭, ৭৭৭ ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মতো আধুনিক মডেলের বিমান তৈরি করে আসছে, যা বিশ্বের নামকরা এয়ারলাইনগুলোর বহরের প্রধান অংশ। বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় ধরে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বোয়িংয়ের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন সাইডলাইনে নতুন করে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। এই নতুন ক্রয়াদেশের ফলে চলতি বছর বিমানের মোট বোয়িং কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে, যা এর আগের ১৪টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বোয়িংয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘ দূরত্বে উড়ার সক্ষমতা, জ্বালানি দক্ষতা, বেশি যাত্রী বহনের সুযোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তি।
বাণিজ্যিক বিমান তৈরির ক্ষেত্রে বোয়িং তার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের জন্য পরিচিত। স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে মূলত ৭৩৭ সিরিজের বিমানগুলো ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ৭৮৭ বা ৭৭৭-এর মতো প্রশস্ত দেহের বিমানগুলো বেশি কার্যকর। ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলটি ২০১১ সালে বাণিজ্যিক সেবায় আসার পর থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই বিমানের প্রায় ৫০ শতাংশ কাঠামো কম্পোজিট উপকরণ দিয়ে তৈরি এবং এটি আগের প্রজন্মের বিমানগুলোর তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করতে সক্ষম। এছাড়া বড় জানালা, উন্নত কেবিন প্রেশার এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যাত্রীদের ভ্রমণে বাড়তি আরাম দেয়।
নতুন চুক্তিতে যুক্ত ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের বিমান স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। বায়ুগতীয় নকশা ও উন্নত ইঞ্জিনের ব্যবহারের ফলে এই বিমানগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলটি অতীতে নিরাপত্তার কারণে আলোচনায় ছিল। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী এই মডেলের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পর বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র নিয়ে এটি পুনরায় সেবায় ফিরে আসে। তবে কোন বিমান একটি এয়ারলাইনের জন্য উপযোগী হবে, তা নির্ভর করে রুট, যাত্রীসংখ্যা, বিমানবন্দরের সুবিধা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ওপর। তবে ৭৩৭ ম্যাক্সের নিরাপত্তার ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ।
বোয়িংয়ের বিভিন্ন মডেলের তালিকাভুক্ত বাজারদরও বেশ আকর্ষণীয়। বর্তমানে ৭৩৭-৮ ম্যাক্সের দাম প্রায় ১২১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, ৭৮৭-৮ মডেলের দাম প্রায় ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, ৭৮৭-৯ মডেলের দাম প্রায় ২৯২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং ৭৮৭-১০ মডেলের দাম প্রায় ৩৩৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এয়ারলাইনগুলোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য বাণিজ্যিক ছাড়, চুক্তির ধরন ও অন্যান্য শর্তের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। কেবল বাংলাদেশ নয়, তুরস্ক, চীন, ভারত ও ফিলিপাইনসহ বিশ্বের অনেক দেশের এয়ারলাইন সাম্প্রতিককালে তাদের বহর আধুনিকীকরণে বোয়িংয়ের নতুন মডেলের উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে।





















