ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 16
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব, কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনা এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বরং এগুলো সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। আন্তর্জাতিক এই দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সারাদেশে দলের ভেতরে আত্মশুদ্ধি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় সংসদের একজন সংরক্ষিত আসনের সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে প্রায় ৫০ বছর ধরে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের শিকার হলো। এটি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী চোরতন্ত্রের পতনের পর জনরায়ে ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীরা এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশবাসীকে কী বার্তা দিতে চাইছেন? সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে সাবেক সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণের ভীতি এখনো সতেজ, এমতাবস্থায় বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত আগস্ট থেকে বিজয়ের দাবিদার হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ঢাকার সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীর মতো বাস টার্মিনাল, বিভিন্ন বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, ফুটপাত, বর্জ্য সংগ্রহ বাণিজ্য ও ইন্টারনেট সেবার মতো লাভজনক খাতগুলো দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ। নিজেদের মধ্যে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও চাঁদাবাজির প্রবণতা অনেক সময় সহিংস রূপ নিচ্ছে। অথচ সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে দুর্নীতি নয়, বরং ‘সমঝোতার লেনদেন’ হিসেবে ঘোষণা করার পর এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে।

কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলে আসা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তার মতে, এগুলো সরকারের ভালো সদিচ্ছাকে ম্লান করে দিচ্ছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষায় এখনই দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর আত্মশুদ্ধি বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে, ভবিষ্যতে এই দখলবাজি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাদের হাতের বাইরে চলে যাবে। নিকট অতীতের উদাহরণ থেকেই এমনটি প্রতীয়মান হয় যে, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে শক্ত হাতে দমন করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দলীয় হাইকমান্ড বিব্রত হয়ে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও, কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার থামছে না। অপরাধে জড়িতদের অনেকের সঙ্গে সরকারি দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বাস্তবে দেশে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার এক সংস্কৃতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব, কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনা এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বরং এগুলো সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। আন্তর্জাতিক এই দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সারাদেশে দলের ভেতরে আত্মশুদ্ধি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় সংসদের একজন সংরক্ষিত আসনের সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে প্রায় ৫০ বছর ধরে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের শিকার হলো। এটি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী চোরতন্ত্রের পতনের পর জনরায়ে ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীরা এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশবাসীকে কী বার্তা দিতে চাইছেন? সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে সাবেক সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণের ভীতি এখনো সতেজ, এমতাবস্থায় বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত আগস্ট থেকে বিজয়ের দাবিদার হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ঢাকার সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীর মতো বাস টার্মিনাল, বিভিন্ন বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, ফুটপাত, বর্জ্য সংগ্রহ বাণিজ্য ও ইন্টারনেট সেবার মতো লাভজনক খাতগুলো দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ। নিজেদের মধ্যে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও চাঁদাবাজির প্রবণতা অনেক সময় সহিংস রূপ নিচ্ছে। অথচ সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে দুর্নীতি নয়, বরং ‘সমঝোতার লেনদেন’ হিসেবে ঘোষণা করার পর এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে।

কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলে আসা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তার মতে, এগুলো সরকারের ভালো সদিচ্ছাকে ম্লান করে দিচ্ছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষায় এখনই দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর আত্মশুদ্ধি বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে, ভবিষ্যতে এই দখলবাজি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাদের হাতের বাইরে চলে যাবে। নিকট অতীতের উদাহরণ থেকেই এমনটি প্রতীয়মান হয় যে, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে শক্ত হাতে দমন করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দলীয় হাইকমান্ড বিব্রত হয়ে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও, কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার থামছে না। অপরাধে জড়িতদের অনেকের সঙ্গে সরকারি দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বাস্তবে দেশে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার এক সংস্কৃতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।