পাকিস্তানের আকাশসীমা জটিলতায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছাতে দেরি
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি নিয়ে আসা কার্গো বিমানটি সময়মতো বাংলাদেশে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানটির ঢাকা আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, জ্বালানি পরিবহনের জন্য এখন নতুন সময়সূচি তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে পারে। কেন পাকিস্তান বিমানটিকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, কার্গো বিমানটির আগমন উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপেক্ষায় ছিলেন। তবে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা শেষ মুহূর্তে জানান যে, আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঠিক কোন দেশের সিদ্ধান্তের কারণে এই বাধা এসেছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। রোসাটমের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে রূপপুর প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে এসেছিল। তখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টিত ‘গ্রিন করিডর’ ব্যবহার করে সড়কপথে সেই জ্বালানি রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, বর্তমানে যে প্রশাসনিক বা আকাশসীমা সংক্রান্ত বাধা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুতই নিরসন করা সম্ভব হবে। নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর জ্বালানিবাহী বিমানটি বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে। রূপপুর প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় প্রকল্পে জ্বালানি পৌঁছানোর এই বিলম্বকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।


























