ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরে তিন অভিযানে বিপুল পণ্যসহ আটক ৭ সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা, পাল্টা বিমান হামলা সানায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একই পরিবারের সাতজনের রিয়াদে আরামকোর তেল শোধনাগারে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনের নতুন রেকর্ড: জাতীয় গ্রিডে ১৩২১ মেগাওয়াট ঢাকার ৪ বারে এনবিআরের বিশেষ অভিযান শাহজালালে সোনা পাচারের সময় আটক বিমানকর্মী ও যাত্রী জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ড. মঈন খানের মহেশপুরে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও সারসংকটের প্রতিবাদে জামায়াতের আফ্রিকার সংঘাত নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ডাক দিলেন সিসি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একই পরিবারের সাতজনের

  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহে শুক্রবার সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আকুয়া বাইপাসে দ্রুতগতির রাজিব পরিবহনের একটি বাস যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ও কর্মস্থলে ফেরা এক দম্পতি রয়েছেন।

নিহতদের একজন ৫৫ বছর বয়সী মোফাজ্জল হোসেন লেবু। গত বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দড়ি হামিদপুর থেকে মা রশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) ও পাঁচ বছরের নাতি মিলানকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়ার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। শুক্রবার সকালে তারা অটোরিকশায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথেই বাসচাপায় তাদের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। স্বজনদের তথ্যমতে, নিহত মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মমতা বেগম (৩৯) ও তার স্বামী আকরাম হোসেন। শুক্রবার সকালে কর্মস্থলে ফেরার জন্য মমতা তার মায়ের কাছ থেকে ২,০০০ টাকা নিয়েছিলেন। স্বামী নির্মাণশ্রমিক আকরামের সঙ্গে তিনি ময়মনসিংহের ভালুকায় তাদের কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছিলেন। দরিদ্র সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়েছিলেন এই দম্পতি, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অকালে ঝরে গেল তাদের প্রাণ। স্বামী আকরাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ভালুকার কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কারো গন্তব্যে পৌঁছা হলো না।

মমতার মা রশিদা বেগম জানান, মেয়ে যাওয়ার সময় তার কাছ থেকে ২,০০০ টাকা চেয়ে নিয়েছিল। তিনি প্রথমে যেতে নিষেধ করলেও মমতা শোনেননি। এই সামান্য টাকাটিই ছিল তাদের পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন ও স্বপ্ন। এখন মায়ের চোখে কেবল মেয়ের শেষ স্মৃতিটুকু আর বাড়িতে ফিরে আসা নিথর দেহ।

নিহতদের স্বজন মোবারক হোসেন ও ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন পাপন জানান, বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন লেবু সবাইকে নিয়ে গাজীপুরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অন্যদিকে, মমতা ও আকরামের অকাল মৃত্যুতে তাদের রেখে যাওয়া দুই কন্যাসন্তান এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা ছিল, বাইপাস থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাবেন। মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের এ পরিণতি।

দুর্ঘটনার পর শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতে এবং শনিবার সকালে জামালপুর সদরের রানাগাছা ও শরিফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। মোফাজ্জল ও তার মা রশিদা বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে এবং মর্জিনা ও তার ছেলে মিলানকে মর্জিনার শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। একইসাথে আকরাম ও তার স্ত্রী মমতার লাশ তাদের গ্রামের বাদেচাঁন্দি সামাজিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। স্বজনদের কাছে যে যাত্রা ছিল ঘরে ফেরার বা নতুন করে কাজে ফেরার, কয়েক মুহূর্তেই তা পরিণত হলো লাশের মিছিলে। সেখানে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন তিনি।

সড়কে একটি মুহূর্তের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গতির কারণে কীভাবে একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্ম বিলীন হয়ে যেতে পারে, এই দুর্ঘটনাটি তারই এক করুণ সাক্ষী। অনাথ দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এবং স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একই পরিবারের সাতজনের

আপডেট সময় : ১০:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহে শুক্রবার সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আকুয়া বাইপাসে দ্রুতগতির রাজিব পরিবহনের একটি বাস যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ও কর্মস্থলে ফেরা এক দম্পতি রয়েছেন।

নিহতদের একজন ৫৫ বছর বয়সী মোফাজ্জল হোসেন লেবু। গত বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দড়ি হামিদপুর থেকে মা রশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) ও পাঁচ বছরের নাতি মিলানকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়ার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। শুক্রবার সকালে তারা অটোরিকশায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথেই বাসচাপায় তাদের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। স্বজনদের তথ্যমতে, নিহত মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মমতা বেগম (৩৯) ও তার স্বামী আকরাম হোসেন। শুক্রবার সকালে কর্মস্থলে ফেরার জন্য মমতা তার মায়ের কাছ থেকে ২,০০০ টাকা নিয়েছিলেন। স্বামী নির্মাণশ্রমিক আকরামের সঙ্গে তিনি ময়মনসিংহের ভালুকায় তাদের কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছিলেন। দরিদ্র সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়েছিলেন এই দম্পতি, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অকালে ঝরে গেল তাদের প্রাণ। স্বামী আকরাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ভালুকার কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কারো গন্তব্যে পৌঁছা হলো না।

মমতার মা রশিদা বেগম জানান, মেয়ে যাওয়ার সময় তার কাছ থেকে ২,০০০ টাকা চেয়ে নিয়েছিল। তিনি প্রথমে যেতে নিষেধ করলেও মমতা শোনেননি। এই সামান্য টাকাটিই ছিল তাদের পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন ও স্বপ্ন। এখন মায়ের চোখে কেবল মেয়ের শেষ স্মৃতিটুকু আর বাড়িতে ফিরে আসা নিথর দেহ।

নিহতদের স্বজন মোবারক হোসেন ও ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন পাপন জানান, বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন লেবু সবাইকে নিয়ে গাজীপুরে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অন্যদিকে, মমতা ও আকরামের অকাল মৃত্যুতে তাদের রেখে যাওয়া দুই কন্যাসন্তান এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা ছিল, বাইপাস থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাবেন। মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের এ পরিণতি।

দুর্ঘটনার পর শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতে এবং শনিবার সকালে জামালপুর সদরের রানাগাছা ও শরিফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। মোফাজ্জল ও তার মা রশিদা বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে এবং মর্জিনা ও তার ছেলে মিলানকে মর্জিনার শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। একইসাথে আকরাম ও তার স্ত্রী মমতার লাশ তাদের গ্রামের বাদেচাঁন্দি সামাজিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। স্বজনদের কাছে যে যাত্রা ছিল ঘরে ফেরার বা নতুন করে কাজে ফেরার, কয়েক মুহূর্তেই তা পরিণত হলো লাশের মিছিলে। সেখানে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন তিনি।

সড়কে একটি মুহূর্তের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গতির কারণে কীভাবে একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্ম বিলীন হয়ে যেতে পারে, এই দুর্ঘটনাটি তারই এক করুণ সাক্ষী। অনাথ দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এবং স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।