এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ ভাবছে
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করার বদলে তিন মাসের মধ্যেই আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে সরকার। অকৃতকার্য বিষয়ে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের সুবিধা চালুর বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে গণস্বাক্ষরতা অভিযান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের দায় সরকার এড়াতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা হয়।
অকৃতকার্যদের জন্য প্রশিক্ষণ ও বিকল্প পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের নিজস্ব যোগ্যতা ও আগ্রহ বিবেচনা করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ক্যারিয়ার গঠনের পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। শিক্ষা উপদেষ্টা জানান
- শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
- কাউকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ধারায় যুক্ত করা হতে পারে।
- যাদের প্রতিশ্রুতিশীল ও ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা ধারণা রয়েছে, তাদের প্রাথমিক অর্থায়নের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।
- জাপানি, কোরীয়, চীনা কিংবা পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখানোর মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সরাসরি সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিন থেকে ছয় মাসের ভাষা শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে বহু শিক্ষার্থী সরাসরি কাজের সুযোগে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।
শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা ও সম্মেলন
প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে কোনো একক কারণ নেই বলে উল্লেখ করেন ড. মাহদী আমিন। সে কারণে সরকারের পদক্ষেপও বহুমাত্রিক হতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যারা ভালো ফলাফল করেছে তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেনি তাদের প্রতিও সমপরিমাণ দায়িত্ব রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন ফলাফলের কারণে নিজেকে অবহেলিত মনে না করে—প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পটভূমি, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পরিস্থিতি এবং সংকট থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সম্মেলনে বিভিন্ন শিক্ষা কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

























