ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে চিকিৎসাধীন নারী হাজতির মৃত্যু দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে নামছে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সেবা প্রসারে গলফহাউসের সাথে নতুন চুক্তি নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালো আইএমএফ আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিয়ে বিধিনিষেধ: বাড়ছে ক্ষোভ ও বিতর্ক নির্ধারিত দামেও মিলছে না এলপিজি, বাজারে চরম অস্থিরতা নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি এলপিজি বিক্রি, বিপাকে সাধারণ গ্রাহক শাহজালালে কোটি টাকার হীরা ও স্বর্ণালংকারসহ যাত্রী আটক চকবাজারে মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

  • আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) জেএফকে বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় তাঁর চলাচলের সময় বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরে তাঁর চলাচলের সময় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে উচ্চস্বরে নানা অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসা ড. ইউনূস বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। তাঁদের কাউকে ‘ইউ আর টেররিস্ট’ (আপনি সন্ত্রাসী), ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ (আপনি বাংলাদেশিদের হত্যা করেছেন), ‘গো ব্যাক’ (ফিরে যান) এবং ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ (আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন) বলতে শোনা যায়।

বিক্ষোভের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের অনেকে বাংলাদেশে পুলিশ সদস্যদের প্রাণহানি ও দেশের চলমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. ইউনূসের কাছে প্রশ্ন তোলেন এবং নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সাবেক এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়, তাদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা কিংবা ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় জেএফকে বিমানবন্দরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল, যে ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ একজনকে আটকও করেছিল। তবে সোমবার ঘটে যাওয়া সর্বশেষ এই ঘটনার সঙ্গে গত বছরের ওই ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র বা মিল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিক্ষোভে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্লোগান এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভিডিওতে ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে একের পর এক মন্তব্য করতে দেখা গেলেও তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও সে সময় বিক্ষোভকারীদের বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) জেএফকে বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় তাঁর চলাচলের সময় বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরে তাঁর চলাচলের সময় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে উচ্চস্বরে নানা অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসা ড. ইউনূস বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। তাঁদের কাউকে ‘ইউ আর টেররিস্ট’ (আপনি সন্ত্রাসী), ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ (আপনি বাংলাদেশিদের হত্যা করেছেন), ‘গো ব্যাক’ (ফিরে যান) এবং ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ (আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন) বলতে শোনা যায়।

বিক্ষোভের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের অনেকে বাংলাদেশে পুলিশ সদস্যদের প্রাণহানি ও দেশের চলমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. ইউনূসের কাছে প্রশ্ন তোলেন এবং নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সাবেক এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়, তাদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা কিংবা ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় জেএফকে বিমানবন্দরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল, যে ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ একজনকে আটকও করেছিল। তবে সোমবার ঘটে যাওয়া সর্বশেষ এই ঘটনার সঙ্গে গত বছরের ওই ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র বা মিল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিক্ষোভে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্লোগান এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভিডিওতে ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে একের পর এক মন্তব্য করতে দেখা গেলেও তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও সে সময় বিক্ষোভকারীদের বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন।