ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ফের বাড়ল ব্যয় ও

  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ আরও একবার বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বৃদ্ধির নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রকল্পের নতুন সংশোধিত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ চুক্তির ব্যয় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এতে নির্মাণ খাতে অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা খরচ যুক্ত হলো। অন্যদিকে, পরামর্শক সেবার ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে আরও বেশি। এই খাতে মূল চুক্তিমূল্য ৭৭২ কোটি টাকা থাকলেও নতুন করে ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানোর ফলে তা প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে প্রকল্পের নির্মাণকাজের ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুর লক্ষ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের বিমান চলাচল খাতের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের এই অতিরিক্ত ব্যয় এবং দফায় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে টার্মিনাল আংশিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করার সময়সীমা আরও দেড় বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই বড় প্রকল্পে এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত নতুন সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করাই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় ও সময়—দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে পরিবর্তন এসেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ফের বাড়ল ব্যয় ও

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ আরও একবার বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বৃদ্ধির নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রকল্পের নতুন সংশোধিত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ চুক্তির ব্যয় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এতে নির্মাণ খাতে অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা খরচ যুক্ত হলো। অন্যদিকে, পরামর্শক সেবার ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে আরও বেশি। এই খাতে মূল চুক্তিমূল্য ৭৭২ কোটি টাকা থাকলেও নতুন করে ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানোর ফলে তা প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে প্রকল্পের নির্মাণকাজের ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুর লক্ষ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের বিমান চলাচল খাতের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের এই অতিরিক্ত ব্যয় এবং দফায় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে টার্মিনাল আংশিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করার সময়সীমা আরও দেড় বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই বড় প্রকল্পে এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত নতুন সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করাই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় ও সময়—দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে পরিবর্তন এসেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।