উত্তাল ফ্রান্স: বিভিন্ন শহরে কারফিউ ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ফ্রান্সে চলমান ব্যাপক দাঙ্গা ও লুটপাটের জেরে রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে রাতের বেলা কারফিউ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে বেশ কিছু এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং জনসেবার মান নিয়ে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে সহিংস রূপ নেয়। ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যার ফলে বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। প্যারিসের ‘প্লাস দ্য লা রিপাবলিক’ ও ‘লে আল’ শপিং এলাকার মতো জনাকীর্ণ স্থানে স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। একই ধরনের বিধিনিষেধ মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ এবং লিলসহ অন্যান্য বড় শহরেও জারি করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারি তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনাটিও উড়িয়ে দেননি। এছাড়া, সহিংসতার মুখে অনেক এলাকায় পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দেশজুড়ে সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজোর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

























