অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ভাড়া বাসায় ডিজে পার্টি ও অসামাজিক
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় অবস্থিত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগে ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তরা বিভাগ। সোমবার গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে ২৬ জন নারী এবং ৫৮ জন পুরুষ রয়েছেন। ডিবির সূত্রমতে, আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকসহ এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও রয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অবাধে অপকর্ম চললেও এতদিন প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ, এমন দাবি স্থানীয়দের।
তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত তিনতলা বাড়িটি অনলাইনে ‘এয়ারবিএনবি’ (Airbnb) অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। আব্দুল্লাহ আল জহির বাড়িটি পরিচালনার জন্য মাহবুব আলম নামে একজনকে ‘কো-হোস্ট’ হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার ৭০ শতাংশ টাকা জহিরের অ্যাকাউন্টে জমা হতো এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ মাহবুব নিতেন। বাড়িটি এক পুলিশ কর্মকর্তার হওয়ার সুবাদে স্থানীয় পর্যায়ে কেউ এর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস করত না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। বাড়িটি এক পুলিশ কর্মকর্তার হওয়ায় ভয়ে কেউ ওদিকে তাকানোর সাহসও পেত না। অনলাইনে এয়ারবিএনবি অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া ওই বাড়ি থেকে আয়ের ৭০ ভাগ যেত জহিরের অ্যাকাউন্টে, আর বাকিটা নিতেন তার নিয়োগ দেওয়া কো-হোস্ট মাহবুব। এছাড়া ভাটারা থানা এলাকায় তার সাড়ে ছয় কাঠা জমি কেনার টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন।
অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির নামে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আসর বসত। মদ, নারী ও অসামাজিক কার্যকলাপ—সবই চলত ফ্রি স্টাইলে।
৫টি কক্ষ বিশিষ্ট এই বাড়িতে একেকটি রুম ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নিতো এবং অতিরিক্ত লোক থাকলে প্রতিজনের জন্য ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে মাসে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হতো এবং প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো। তল্লাশিতে বাড়িটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও কনডম জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার এই জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের আয়ের উৎস নিয়েও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধানে নেমেছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি বাড়িটি ভাড়া নিয়ে কেউ রাত্রিযাপন করতেন, আবার কেউ পার্টি করতেন। তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও। মদ, গাঁজা, কনডমসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।’। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, ‘আমি অনলাইনে নিয়মিত বাড়িটি ভাড়া দিয়ে থাকি এবং সেখানে কিছু কঠোর নিয়মও রয়েছে। এবার জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে যদি কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তবে আমি অসৎ উদ্দেশ্যে কখনোই বাড়ি ভাড়া দেইনি।’ তিনি দাবি করেন, এর আগেও ভাড়াটিয়াদের কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার নজির রয়েছে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেখানে কনটেইনার দিয়ে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিতেন তিনি এবং সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও আসত। কিন্তু তারা যে এ ধরনের কাজ করবে বা মদ আনবে, সেটা তো আমি জানতাম না।’।

























