টাইফুনের কবলে জাপান ও তাইওয়ান, শতাধিক ফ্লাইট বাতিল
- আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে তাইওয়ান এবং জাপানের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। ঝড়ের কারণে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। এর আগে ঝড়টি সুপার টাইফুনের রূপ নিয়েছিল, যা বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হলেও এখনো প্রবল গতিসম্পন্ন। ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার বা ১৪১ মাইল রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে এটি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি উত্তর দিকে সরে গিয়ে চীনের উপকূল হয়ে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম চাম্পি ইতিমধ্যে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল।
ঝড়টির ব্যাপ্তি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হওয়ায় তাইওয়ানের অধিকাংশ ভূখণ্ডে এর প্রভাব পড়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ছয় মিটার উচ্চতার ঢেউ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে এক মিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দূরে থাকার এবং যথাযথ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাইওয়ানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ রুটের ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে ১১ হাজারের বেশি যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোও এই টাইফুনের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে ওকিনাওয়া অঞ্চলের ইয়োনাগুনি দ্বীপ এলাকাটি। আকাশপথের এই অচলাবস্থায় জাপান এয়ারলাইনস, অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ এবং স্কাইমার্ক এয়ারলাইনস বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত একশর বেশি ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ১১ হাজারের অধিক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; তাই যাত্রীদের নিয়মিত ফ্লাইটের আপডেট যাচাই করে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে সামরিক কার্যক্রমেও। বর্তমানে তাইওয়ানের নিকটবর্তী জাপানি দ্বীপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রায় ৫৬ হাজার সেনার অংশগ্রহণে ‘কিন সোর্ড’ নামক যৌথ সামরিক মহড়া চলছে। কিন্তু টাইফুনের কারণে উদ্ভূত বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে মহড়ার সময়সূচি ও কার্যক্রমে নিয়মিত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই প্রতিদিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।

























