ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ বললেন ট্রাম্প হুতিদের -: রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দেশের বাজারে আরও কমল স্বর্ণের দাম ট্রাম্পের ইরান নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওবামার তীব্র সমালোচনা টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহরে নতুন এয়ারবাস এ৩২১এলআর যোগ করছে কাতার এয়ারওয়েজ নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী মামলার বিচার শুরু হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে ফের হামলা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই অনুমোদন দিল এনসিসিসি খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ বললেন ট্রাম্প

  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন যে, আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন প্রবর্তনের চেষ্টা করছেন এবং তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যদিও আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই তিন সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্পের বক্তব্যের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন। এ আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী আল-সাইয়েদ। ১০০ আসনের মার্কিন সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় এই আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, আল-সাইয়েদ বা ডেমোক্র্যাটরা জিতলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিস্তার ঘটবে, এমনকি বড়দিন উদ্‌যাপনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে লড়ছেন এমন কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

আল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়কে পুঁজি করে ট্রাম্প বারবার তাকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি কখনো তার নাম বিকৃত করে ‘মোহাম্মদ’ বলেও সম্বোধন করেছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না যে কোনো ‘জিহাদি’ বা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হোন। আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা, যিনি দেশটির সংবিধান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।

জনসভায় উপস্থিত অনেক দর্শক আল-সাইয়েদের নাম শুনে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তবে এমন বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যকে আল-সাইয়েদ ট্রাম্পের মনোযোগ সরানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি বরং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রসারের মতো অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও ট্রাম্প মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দলটির জন্য এ জয় গুরুত্বপূর্ণ। এতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যে মানুষ বড়দিনও উদ্‌যাপন করতে পারবে না। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের বিরোধিতা করে শুল্কনীতি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পেট্রলের জন্য সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ দিতে হলেও এ মুনাফার কথা বলতে তিনি দ্বিধা করবেন না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মাইক রজার্সও আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং বামপন্থী সংগঠন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’-র সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন। যদিও রজার্স কংগ্রেস সদস্য থাকাকালে ২০১২ সালে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। বর্তমানে মিশিগানে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্কেটিং রিসোর্স গ্রুপের চলতি মাসের শুরুর এক জরিপে দেখা গেছে, মিশিগানের মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যাওয়া ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের কোনো অনুশোচনা তার নেই। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। রোববার মিশিগানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৮৩ ডলার, যা যুদ্ধের আগে ছিল ২ দশমিক ৯১ ডলার। তেহরানের বক্তব্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনছে, যা থেকে দেশটির শত শত বিলিয়ন ডলার মুনাফা হচ্ছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, পেট্রলের উচ্চমূল্যের বিপরীতে এই বিপুল মুনাফা দেশটির অর্থনীতির জন্য ভালো।

জনসভা চলাকালে ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কটূক্তি করেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ও র‍্যাপার নিকি মিনাজকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করলে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং মূল্যস্ফীতিজনিত অসন্তোষের আবহেও ট্রাম্পের এই জনসভায় সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশস্থলের বাইরে কয়েক ব্লকজুড়ে সমর্থকদের সারি ছিল। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা পোশাক পরে অনেকে সেখানে জড়ো হন। এসব মন্তব্যে উপস্থিত জনতা উল্লাস করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ বললেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন যে, আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন প্রবর্তনের চেষ্টা করছেন এবং তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যদিও আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই তিন সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্পের বক্তব্যের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন। এ আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী আল-সাইয়েদ। ১০০ আসনের মার্কিন সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় এই আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, আল-সাইয়েদ বা ডেমোক্র্যাটরা জিতলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিস্তার ঘটবে, এমনকি বড়দিন উদ্‌যাপনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে লড়ছেন এমন কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

আল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়কে পুঁজি করে ট্রাম্প বারবার তাকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি কখনো তার নাম বিকৃত করে ‘মোহাম্মদ’ বলেও সম্বোধন করেছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না যে কোনো ‘জিহাদি’ বা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হোন। আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা, যিনি দেশটির সংবিধান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে।

জনসভায় উপস্থিত অনেক দর্শক আল-সাইয়েদের নাম শুনে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তবে এমন বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যকে আল-সাইয়েদ ট্রাম্পের মনোযোগ সরানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি বরং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রসারের মতো অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে ২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও ট্রাম্প মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দলটির জন্য এ জয় গুরুত্বপূর্ণ। এতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যে মানুষ বড়দিনও উদ্‌যাপন করতে পারবে না। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের বিরোধিতা করে শুল্কনীতি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পেট্রলের জন্য সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ দিতে হলেও এ মুনাফার কথা বলতে তিনি দ্বিধা করবেন না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মাইক রজার্সও আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং বামপন্থী সংগঠন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’-র সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন। যদিও রজার্স কংগ্রেস সদস্য থাকাকালে ২০১২ সালে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। বর্তমানে মিশিগানে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্কেটিং রিসোর্স গ্রুপের চলতি মাসের শুরুর এক জরিপে দেখা গেছে, মিশিগানের মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যাওয়া ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের কোনো অনুশোচনা তার নেই। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। রোববার মিশিগানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৮৩ ডলার, যা যুদ্ধের আগে ছিল ২ দশমিক ৯১ ডলার। তেহরানের বক্তব্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনছে, যা থেকে দেশটির শত শত বিলিয়ন ডলার মুনাফা হচ্ছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, পেট্রলের উচ্চমূল্যের বিপরীতে এই বিপুল মুনাফা দেশটির অর্থনীতির জন্য ভালো।

জনসভা চলাকালে ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কটূক্তি করেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ও র‍্যাপার নিকি মিনাজকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করলে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং মূল্যস্ফীতিজনিত অসন্তোষের আবহেও ট্রাম্পের এই জনসভায় সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশস্থলের বাইরে কয়েক ব্লকজুড়ে সমর্থকদের সারি ছিল। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা পোশাক পরে অনেকে সেখানে জড়ো হন। এসব মন্তব্যে উপস্থিত জনতা উল্লাস করে।