মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
- আপডেট সময় : ১১:১৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই তিনটি দেশ সম্প্রতি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রভাবশালী ইসলামী দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সামগ্রিক সংহতি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী। পেজেশকিয়ান বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করা এবং একসঙ্গে সংহতি বজায় রাখা।
বৈঠকটিতে পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। সৌদি আরবের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি’র তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার প্রধান এজেন্ডা ছিল আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং ইসরাইলের হামলার সম্ভাব্য পরিণতি মোকাবিলা করা।
প্রথম দফার আলোচনা শেষে চার দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলী বাঘেরি কানি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় নিজস্ব উদ্যোগেই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, জোটভুক্ত কোনো দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। মূলত এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
























