সুরতহাল প্রতিবেদনে তাহসিফ সাউরির শারীরিক অবস্থার বিবরণ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের কাছ থেকে বুধবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকালে ওই কর্মকর্তার গায়ে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের আলামত দেখা গিয়েছিল।
প্রতিবেদনে তাহসিফের শারীরিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি ছিল। তার চুল কালো এবং মুখে ছোট দাড়ি ও গোঁফ ছিল। উদ্ধার অভিযানের সময় তার চোখ ও মুখ বন্ধ অবস্থায় ছিল, তবে পেট ফোলা ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে মুষ্টিবদ্ধ ও বাঁকানো ছিল। তার বুক, পেট, পিঠ, পা এবং যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃতদেহটি উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট এবং সাদা ট্রাউজার।
নৌ পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহসিফের হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গিয়েছিল, যা তার পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী তাহসিফের আদি নিবাস খুলনার সোনাডাঙ্গায় হলেও তিনি রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে পাড়ি জমানো তাহসিফ বাস করতেন উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে; তাঁর নাড়ির টান ছিল খুলনার সোনাডাঙ্গায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি তাহসিফ সাউরি তার ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন বলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। পুলিশের সুরতহাল প্রক্রিয়াটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে ঘটনাস্থলে বা লাশের উপস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে মরদেহের বাহ্যিক অবস্থার বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে বা লাশের কাছে গিয়ে মৃত ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে।

























